চুয়েটে অচলাবস্থার মধ্যেই সিন্ডিকেট সভা, অনুপস্থিত শিক্ষক সদস্যরা

শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হলেও আসেনি বড় কোনো সিদ্ধান্ত; কবে খুলবে ক্লাস-পরীক্ষা, অনিশ্চয়তা কাটেনি।

টুইট প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই সিন্ডিকেট সভা করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের অন্য কোনো শিক্ষক সদস্য অংশ নেননি। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি ও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হলেও বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সভায় অংশ নেওয়া এক সিন্ডিকেট সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আরেক সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের অন্য কোনো শিক্ষক সদস্য সভায় উপস্থিত ছিলেন না। তবে সভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

চুয়েটের সিন্ডিকেটে মোট সদস্য ১৭ জন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্যের পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। সভায় কয়েকজন সদস্য অনুপস্থিত থাকার কারণ হিসেবে ছুটি, পারিবারিক অসুস্থতা ও ব্যস্ততার কথা জানা গেছে।

এদিকে সিন্ডিকেটের সচিবের দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির দাবি করেছেন, তিনি আগেই রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে সিন্ডিকেটের সচিব হিসেবেও তিনি আর দায়িত্ব পালন করছেন না।

উপাচার্যকে অবরুদ্ধ, পরে ক্যাম্পাস ত্যাগ

এর আগে প্রায় ৩০ ঘণ্টা উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ থাকার পর গত মঙ্গলবার ক্যাম্পাস ছাড়েন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ তাঁকে ভবন থেকে বের করে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ফিরে উপাচার্য সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

নিয়োগ নিয়ে বিরোধে বন্ধ শিক্ষা কার্যক্রম

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক বন্ধ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।

একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষা কার্যক্রম।

সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়টি আলোচনায় এলেও কবে নাগাদ ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হবে, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে উপাচার্যের নিয়োগ নিয়ে বিরোধের জেরে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে ফেরার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।