অবনমন নয়, সিটির কঠোর শাস্তি চান জেরার্ড

এতআর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি লিভারপুল কিংবদন্তির; পয়েন্ট কর্তন ও দীর্ঘমেয়াদি দলবদল নিষেধাজ্ঞার পরামর্শ।
টুইট প্রতিবেদক: ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ওঠা ১১৫টি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় ঘিরে ফুটবল বিশ্বে চলছে আলোচনা। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ক্লাবটি। সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে যখন নানা জল্পনা, তখন সিটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন লিভারপুলের কিংবদন্তি সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ড।
২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে।
এই সময়ের মধ্যে ২০১৩-১৪ মৌসুমে সিটির কাছে শিরোপা হারানো লিভারপুল দলের অধিনায়ক ছিলেন জেরার্ড। ফলে বিষয়টি নিয়ে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক ন্যায্যতার প্রশ্নও।
সিটির সম্ভাব্য শাস্তি সম্পর্কে নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে জেরার্ড বলেন, ক্লাবটিকে এমন শাস্তি দেওয়া উচিত, যাতে তারা ভোগান্তির মুখে পড়ে, যেভাবে গত নয়-দশ বছরে অন্য দলগুলো তাদের কারণে ভুগেছে।
সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে অর্জিত শিরোপা কেড়ে নেওয়া এবং বাধ্যতামূলক অবনমন। এমনকি সিটিকে ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নশিপেও নামিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে জেরার্ডের মতে, শুধু অবনমন করলেই যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত হবে না।
তাঁর যুক্তি, সিটিকে চ্যাম্পিয়নশিপে নামিয়ে দেওয়া হলেও দলটি পরের মৌসুমেই আবার প্রিমিয়ার লিগে উঠে আসতে পারে। এতে শাস্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। একই সঙ্গে সিটির প্রত্যাবর্তনের কারণে অন্য একটি দলের প্রিমিয়ার লিগে ওঠার সুযোগও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
জেরার্ডের মতে, সিটিকে প্রিমিয়ার লিগে রেখেই কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক শাস্তির আওতায় আনা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পয়েন্ট কেটে নেওয়া এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য খেলোয়াড় কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁর প্রস্তাবই একমাত্র সঠিক সমাধান,এমন দাবি তিনি করছেন না। তবে ফুটবলের নিয়ম ভাঙার অভিযোগে বড় ক্লাবগুলোর ক্ষেত্রেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সাবেক এই ইংলিশ তারকা।
সিটির কাছ থেকে শিরোপা কেড়ে নেওয়া হলে লিভারপুলের ভাগ্যেও কোনো শিরোপা জুটতে পারে। কিন্তু জেরার্ডের কাছে বিষয়টি নিছক শিরোপা পাওয়ার আনন্দের নয়। প্রিমিয়ার লিগ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়া এই সাবেক অধিনায়কের প্রশ্ন, মাঠের প্রতিযোগিতায় হারানো স্মৃতি ও অর্জনের ক্ষতি কীভাবে পূরণ হবে?
জেরার্ড বলেন, প্রিমিয়ার লিগ জিততে না পারার ব্যক্তিগত হতাশা থেকে তিনি কথা বলছেন না। বরং তাঁর নিজের দলসহ অন্য দলগুলোর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া স্মৃতিগুলোর কী হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি কী হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। ক্লাবটির আপিলের নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
তবে জেরার্ডের বক্তব্য আবারও সামনে এনেছে ফুটবলে আর্থিক স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা এবং নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে শাস্তির কার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক।






