রোনালদোর নিষেধাজ্ঞা ছয় মাস পর্যন্ত!

জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে যাওয়ায় শাস্তির মুখে পর্তুগাল অধিনায়ক, মেয়াদ নির্ধারণে চলছে পর্যালোচনা।

টুইট প্রতিবেদক: পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত মেয়াদ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিরর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় রোনালদোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন শৃঙ্খলা পরিষদের পর্যালোচনার ভিত্তিতে শাস্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে।

কোচের সঙ্গে বিরোধে শিবির ত্যা

ঘটনার সূত্রপাত নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচকে ঘিরে। বিরতির পর মাঠে নামার প্রত্যাশা থাকলেও পুরো ম্যাচে রোনালদোকে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়। এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারবেন না বলে জানতে পেরে নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে কোপেনহেগেনে জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে যান পর্তুগিজ তারকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই এমন সিদ্ধান্ত নেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে ঘটনাটি নিয়ে দীর্ঘ বিবৃতি দেন তিনি। সেখানে কোচের বিরুদ্ধে দুবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন।

নিজেই চেয়েছেন শাস্তি

শিবির ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় পর্তুগালের সমর্থক ও সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রোনালদো। একই সঙ্গে ফেডারেশনের কাছে নিজের শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনই অবসরের পরিকল্পনা নেই বলে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে।

রোনালদো জানিয়েছেন, শারীরিকভাবে ফিট থাকলে এবং ক্লাবের হয়ে নিয়মিত খেলতে ও গোল করতে পারলে নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও জাতীয় দলের হয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত থাকবেন তিনি।

তাঁর বক্তব্যের মূল সুর হলো, শাস্তি পেলেও জাতীয় দলের হয়ে সাফল্য অর্জনের আকাঙ্ক্ষা হারাননি তিনি। বরং শাস্তি শেষে আবারও দেশের জার্সিতে মাঠে নামার প্রত্যাশা করছেন পর্তুগাল অধিনায়ক।

বিশ্বকাপের আগে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

রোনালদোর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা পর্তুগাল দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শাস্তির মেয়াদ এক মাস হলে পরিস্থিতি এক রকম থাকবে, আর ছয় মাস পর্যন্ত গড়ালে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সূচি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির সময় তাঁর অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত মেয়াদ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে তাঁর পরবর্তী ম্যাচগুলো নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

এদিকে রোনালদো ক্লাব ফুটবলে ফিরে গোল করে আলোচনায় থাকলেও জাতীয় দলের শৃঙ্খলাজনিত এই বিতর্ক তাঁর ভবিষ্যৎকে নতুন অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। এখন পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সমর্থকেরা।