মৌসুমি বায়ুর বিদায়, বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

১১ অক্টোবর থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বর্ষার বিদায়প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আভাস; দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যে জ্বর, সর্দি-কাশির ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা।

টুইট প্রতিবেদক: দেশ থেকে বিদায় নিতে শুরু করছে মৌসুমি বায়ু। এর ফলে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার পাশাপাশি আবহাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। দিনে গরম এবং রাতে তুলনামূলক ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে বাড়তে পারে মৌসুমি অসুস্থতা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের এ সময় বাড়তি সতর্কতা ও যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে জানানো হয়, আগামীকাল ১১ অক্টোবর দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ দিয়ে মৌসুমি বায়ুর বিদায়প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এ প্রক্রিয়া ছড়িয়ে পড়বে।

বিডব্লিউওটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা ও বরিশাল বিভাগসহ দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকা থেকে মৌসুমি বায়ুর বিদায়প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। সর্বশেষে চট্টগ্রাম বিভাগের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ১৩ থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে বর্ষা বিদায় নিতে পারে।

কমবে বৃষ্টি, বদলাবে আবহাওয়া

মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নতুন কোনো লঘুচাপ, নিম্নচাপ কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে সাময়িকভাবে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।

বিডব্লিউওটির তথ্য অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে নতুন কোনো লঘুচাপ, নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যায়নি। তবে মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের পর বঙ্গোপসাগরে নতুন আবহাওয়াব্যবস্থা গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা

মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের পর দেশের আবহাওয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়তে পারে। দিনের বেলায় তাপমাত্রা বেড়ে গরম অনুভূত হলেও রাতের শেষ ভাগে আবহাওয়া তুলনামূলক ঠান্ডা ও আরামদায়ক হয়ে উঠতে পারে।

আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনে শরীরের সঙ্গে পরিবেশের তাপমাত্রার মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ সময় জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো অসুস্থতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। তবে এসব অসুস্থতা বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়; আবহাওয়ার পরিবর্তনের পাশাপাশি অন্যান্য কারণও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন জরুরি

ঋতু পরিবর্তনের এ সময়ে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদেরও স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

চিকিৎসাবিষয়ক সাধারণ সতর্কতার অংশ হিসেবে আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক পরা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, বিশ্রাম নেওয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা প্রয়োজন। জ্বর বা শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের মধ্য দিয়ে দেশে বর্ষা-পরবর্তী আবহাওয়ার সূচনা হচ্ছে। এ সময় বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার পাশাপাশি তাপমাত্রার ওঠানামাও জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতন থাকাও জরুরি।