রাজশাহীতে সাংবাদিক সাইদুর রহমানের স্মরণে নাগরিক শোকসভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানুষের অধিকার, কল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আজীবন কাজ করেছেন সাংবাদিক ও সংগঠক সাইদুর রহমান। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর সাহসী অবস্থান এবং সাংবাদিকতায় অবদান রাজশাহীর মানুষের কাছে তাঁকে স্মরণীয় করে রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় রাজশাহী প্রেসক্লাব চত্বরে প্রয়াত সাংবাদিক সাইদুর রহমানের স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অরাজনৈতিক সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ’ এ সভার আয়োজন করে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আসলাম-উদ-দৌলা। প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও সুজনের রাজশাহী সভাপতি আহমদ সফিউদ্দিন। প্রধান আলোচক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান। সভার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন মিন্টু।

বক্তব্য দেন রাজশাহী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুস সবুর, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা মামুন, সাবেক সভাপতি গোলাম সারওয়ার, অ্যাডভোকেট হোসেন আলী পেয়ারা, সিটি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ জুলফিকার, অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বাবু, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সালে ফাত্তাহ, অ্যাডভোকেট শিরাজী শওকত সালেহীন এলেন, সাংবাদিক ওয়ালিউর রহমান বাবু, মাসুদ রানা সরকার ও আল আমিনসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, সাইদুর রহমান শুধু একজন সাংবাদিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন কণ্ঠস্বর এবং মানবকল্যাণে নিবেদিত সংগঠক। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তাঁর হাত ধরে অনেক সাংবাদিক পেশাগত জীবনে এগিয়ে গেছেন। সততা, সাহসিকতা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে তিনি সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।

সাইদুর রহমান দীর্ঘদিন রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আশির দশকে দৈনিক করতোয়া পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা শুরু হয়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দৈনিক ভোরের কাগজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন কিডনি রোগে ভোগার পর গত ২১ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।

শোকসভা পরিচালনা করেন জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাওয়াদ আহমেদ রাফী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আরফিন রহমান কনক। এতে রাজশাহীর সাংবাদিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।