জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৭ জন গ্রেপ্তার

কারাগারে ২৮৯ জনকে আটকের পর অধিকাংশকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে; গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ পুলিশের।

টুইট প্রতিবেদক: রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আটক ২৮৯ জনের মধ্যে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

রোববার রাতে তাঁদের ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁদের জামিন শুনানির জন্য সোমবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে ওই ব্যক্তিরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁদের আটক করা হয়।

পল্টন থানার উপপরিদর্শক মো. নাজমুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মাসুদ খান জানান, পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

আসামিপক্ষের জামিন আবেদনের শুনানি হবে সোমবার।
এর আগে শনিবার বিকেলে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ২৮৯ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে অধিকাংশকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দিনের শুরুতে জাসদ জানিয়েছিল, ২৬ জন নেতা-কর্মী তখনো আটক ছিলেন এবং তাঁদের মুক্তির দাবি জানিয়েছিল দলটি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জাসদ কার্যালয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন,এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে জাসদের পক্ষ থেকে এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

জাসদ জানিয়েছে, পুলিশের অনুমতি নিয়েই তাদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। দলটির অভিযোগ, সভা চলার সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা সেখানে হামলা চালান এবং পরে পুলিশ কার্যালয় ঘেরাও করে নেতা-কর্মীদের আটক করে নিয়ে যায়। জাসদের দাবি, তাদের সভার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো গোপন সভার সম্পর্ক থাকার যে কথা বলা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন।

এদিকে পুলিশের অভিযানের পর জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের চাবি রোববার দলটির নেতাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন।

ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের বক্তব্য ও জাসদের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। পুলিশ আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ হিসেবে কার্যালয়ের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছে; অন্যদিকে জাসদ বলছে, তারা অনুমতি নিয়েই দলীয় প্রতিনিধি সভা করছিল এবং হামলার পর পুলিশ তাঁদের নেতা-কর্মীদের আটক করেছে। ফলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তিই এখন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তালিকাভুক্ত ২৭ জনের নাম যুক্ত করুন

পুলিশের অভিযোগের সূত্রটি স্পষ্ট করুন
‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ’ দাবিটি নিরপেক্ষ করুন