তিন থানায় ভাগ হচ্ছে ঢাকার মোহাম্মদপুর

অক্টোবরে বসিলা থানার প্রস্তাব পাসের আশা। ২০২৭ সালের মধ্যে রায়েরবাজার থানা চালুর লক্ষ্য, অপরাধ কমার দাবি প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের।

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার: রাজধানীর জনবহুল মোহাম্মদপুরকে তিনটি থানায় বিভক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে রায়েরবাজার থানা চালুর লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি বসিলা থানার প্রস্তাব চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার রাজধানীর বসিলা লঞ্চঘাটে আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ববি হাজ্জাজ বলেন, মোহাম্মদপুরকে বর্তমান মোহাম্মদপুর, রায়েরবাজার ও বসিলা—এই তিন অংশে ভাগ করে পৃথক থানা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টের তুলনায় চলতি বছর মোহাম্মদপুরে অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে অপরাধ কমার এই দাবির পক্ষে বিস্তারিত স্বাধীন পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

মোহাম্মদপুর দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা। কিশোর গ্যাং, মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি রয়েছে স্থানীয়দের। বিশাল জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক বিস্তৃতির কারণে একটি থানার মাধ্যমে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় রায়েরবাজার ও বসিলায় পৃথক থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে আগস্টে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে বসিলা ও রায়েরবাজারে দুটি পৃথক থানা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মে মাসেও বসিলায় থানা স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

ডিএমপির পক্ষ থেকেও রায়েরবাজার থানার প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে বসিলায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নতুন দুটি থানা চালু হলে মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় পুলিশের উপস্থিতি ও দ্রুত সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তবে নতুন থানা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমোদন, জনবল, অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ।