গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাল রাতেই স্বাভাবিকের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের নতুন পথরেখা।

টুইট প্রতি‌বেদক: নতুন করে তৈরি হওয়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মঙ্গলবার রাত থেকেই আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে তাৎক্ষণিক সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক সভায় এ আশ্বাস দেওয়া হয়। সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়াও দেশের প্রায় ২০ থেকে ২১টি শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।

সভায় ব্যবসায়ী নেতারা দীর্ঘদিনের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, রপ্তানি পণ্য নির্ধারিত সময়ে সরবরাহে জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে বাড়তে থাকা চাপের কথা তুলে ধরেন।

সভা শেষে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও ব্যবসায়ী ফজলুল হক সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী নতুন করে সৃষ্টি হওয়া গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “কাল রাত থেকেই ইনশাআল্লাহ আমাদের নতুন করে যে সংকট তৈরি হয়েছে, এর আগের যে অবস্থায় আমরা ছিলাম, সেই অবস্থায় গ্যাস-বিদ্যুতের সেই অবস্থায় আমরা কাল রাতে ফিরে যেতে পারবো।”ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সভাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

তাদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা শুনেছেন এবং তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা পূরণে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার, সিসমিক জরিপ, নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণসহ একাধিক উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতার চাপ কমিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, স্বল্পমেয়াদে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এখন সবচেয়ে জরুরি। কারণ জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি সক্ষমতা ও বিনিয়োগ পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সচিবালয়ের এ সভা শুধু চলমান সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নয়; বরং শিল্প উৎপাদন সচল রাখা, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের অগ্রাধিকারেরও স্পষ্ট বার্তা।