অনুমোদিত নবম পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়বে: ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের ঘোষণা

তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে নতুন বেতন কাঠামো; সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার, সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা—প্রথমবার প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতাও।
টুইট প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন বেতন কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এতে গ্রেড-১-এর সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। তবে পুরো বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর না হয়ে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
নতুন বেতন কাঠামোর অন্যতম নতুন সংযোজন হলো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা। প্রথমবারের মতো এ ভাতার আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার একই বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে।
যেভাবে এলো নতুন পে-স্কেল
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার পর নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত করে এই কমিটি।
এর আগে অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে চেয়ারম্যান করে গঠিত কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
নবম বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছিল।
চূড়ান্ত অনুমোদিত কাঠামোয় অবশ্য সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
বাড়তি অর্থের চাপ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হবে। নবম বেতন কমিশনের হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে এর বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। বিপুল এই অর্থের সংস্থান করাই সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় এবার বরাদ্দ বেড়েছে ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা।
১ জুলাই থেকে ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি তখন বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন পে-স্কেলের অনুমোদনের ফলে দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামো পরিবর্তনের অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা পূরণের পথ তৈরি হলো। তবে তিন ধাপে এর বাস্তবায়ন এবং বিপুল অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান কীভাবে করা হবে, এখন সেটিই সরকারের সামনে বড় বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ।






