তারাগঞ্জে সার সিন্ডিকেটের কারসাজিতে জিম্মি কৃষক

সরকারি দামের বদলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ; অবৈধভাবে ইউরিয়া পরিবহনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, জব্দ ১০ বস্তা সার।

নিজস্ব প্রতিনিধি, তারাগঞ্জ (রংপুর): রংপুরের তারাগঞ্জে সার বিক্রিতে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের কারসাজির অভিযোগে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

চাহিদার সময় সার না থাকার অজুহাত দেখিয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও করছেন কৃষকেরা। এতে একদিকে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, অন্যদিকে সময়মতো সার না পাওয়ায় চাষাবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন তাঁরা।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার পরিবহনের দায়ে নুর আলম (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে ১০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনাবব হোসেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তারাগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে সার সরবরাহ ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, ভিতর বাজারের হীরা বীজ ভান্ডার, বাজার রোডের রহমান এন্টারপ্রাইজ এবং রহিমাপুরের আল মদিনা ট্রেডার্সসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সার বিক্রিতে অনিয়ম করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অস্বীকার করেছে।

কৃষকদের ভাষ্য, সরকারি দামে সার বিক্রির নিয়ম থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। বাড়তি দাম দিতে অস্বীকৃতি জানালে ‘সার নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে একই সার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সার সংকট তৈরি হলে কৃষকের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ে।

কৃষকদের অভিযোগ, সার বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য আরও বাড়তে পারে। সরকারি বরাদ্দ ও নির্ধারিত মূল্যে প্রকৃত কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে বাজার পর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় বলেন, ‘সিন্ডিকেট করে সার বিক্রির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছি। কৃষকের স্বার্থে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, সার পরিবহন থেকে শুরু করে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থার ধারাবাহিক নজরদারি জরুরি। কৃষকের জন্য নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার নিশ্চিত করা গেলে একদিকে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকবে, অন্যদিকে কৃষকের আস্থা ফিরবে বাজার ব্যবস্থার ওপর।

তারাগঞ্জে মঙ্গলবারের অভিযানে ১০ বস্তা ইউরিয়া জব্দ ও জরিমানা করার ঘটনা সার বিক্রির অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসনের তৎপরতার ইঙ্গিত দিলেও কৃষকদের প্রত্যাশা—অভিযান যেন সাময়িক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থাকে।

সার সিন্ডিকেটের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে কৃষকের হয়রানি বন্ধ হবে—এমনটাই দাবি স্থানীয় কৃষকদের।