পোনায় প্রাণ, চারায় স্বপ্ন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুনাকের মানবিক উদ্যোগ

পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত, শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা; বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি পরিচর্যার ওপর গুরুত্বারোপ।
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।
জেলা পুলিশ লাইন্সে মঙ্গলবার ( ২৫ আগস্ট)আয়োজিত এ কর্মসূচিতে একদিকে পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় গাছের চারা। পরে পুলিশ লাইন্স কম্পাউন্ডে বৃক্ষরোপণ করেন রাজশাহী রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ।
কর্মসূচির শুরুতে জেলা পুলিশ লাইন্সের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধান অতিথি ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ। এ সময় জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাকৃতিক জলাশয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এরপর ‘গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান, ভবিষ্যৎ গড়ুন’ স্লোগানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পুনাক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এ আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। একটি সুন্দর, বাসযোগ্য ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। রোপিত গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। একটি গাছ বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তা পরিবেশ, মানুষ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনে।
ডিআইজির বক্তব্য শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। পরে তিনি পুলিশ লাইন্স কম্পাউন্ডে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু বৃক্ষরোপণ বা মাছের পোনা অবমুক্ত করা নয়; বরং শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করা। জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ জলজ প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি গাছের চারা বিতরণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সবুজ পরিবেশ গড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করবে।
কর্মসূচিতে পুনাক, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদস্যবৃন্দ, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, পুলিশ সদস্য এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
পুনাক, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। মানবিকতা, পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচি শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রকৃতিপ্রেম ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলার একটি ইতিবাচক প্রয়াস।
পুলিশের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশের প্রতি এমন দায়বদ্ধ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত পরিসরে অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।








