রাজশাহীতে মায়ের সামনে ছেলেকে পিটিয়ে পা ভাঙার অভিযোগ

রাতের আড্ডা ও ধূমপানের প্রতিবাদ করায় হামলা, চিকিৎসাধীন রামেক হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী নগরীর হেতেম খাঁ এলাকায় রাতের বেলায় রাস্তায় আড্ডা ও ধূমপানের প্রতিবাদ করায় সানজিদ ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবককে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে একটি ছাত্রাবাসের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, হামলায় সানজিদের একটি পা ভেঙে গেছে। এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসে তার মাও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাত ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে হেতেম খাঁ গোরস্থানের পশ্চিম পাশে ‘আদর্শ’ ছাত্রাবাসের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সানজিদের পরিবার।

পরিবারের অভিযোগ, ওই সময় ছাত্রাবাসের কয়েকজন শিক্ষার্থী রাস্তায় বসে আড্ডা ও ধূমপান করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে হেতেম খাঁ এলাকার বাসিন্দা মুরাদের ছেলে সানজিদ ইসলাম প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রাবাসের চারজন শিক্ষার্থী সানজিদকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর তাকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মারতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে সানজিদের মা ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে আহত করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

পরিবারের আরও অভিযোগ, মায়ের সামনেই সানজিদের পায়ে আঘাত করা হয় এবং এতে তার পা ভেঙে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নগরীর বিভিন্ন মেস ও ছাত্রাবাসে নিয়ম-শৃঙ্খলা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে গভীর রাত পর্যন্ত সড়ক ও ছাত্রাবাসের ছাদে আড্ডা চলায় আশপাশের বাসিন্দাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ছাত্রাবাস ও মেস মালিক নিয়ম-শৃঙ্খলার বিষয়টি যথাযথভাবে দেখভাল না করে কেবল আর্থিক লাভের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর ফলে মেস ও ছাত্রাবাস অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধের সৃষ্টি হচ্ছে।

এলাকাবাসী বলছেন, নগরীর মেস ও ছাত্রাবাসগুলোতে নির্ধারিত নিয়ম-শৃঙ্খলা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি গভীর রাতের আড্ডা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।