মানুষের আলমডাঙ্গা গড়ার স্বপ্ন লিপুর: অগ্রাধিকার নাগরিক সেবায়

দুর্নীতিমুক্ত পৌরসভা, পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও তরুণদের নিয়ে মানবিক আলমডাঙ্গা গড়ার প্রতিশ্রুতি মেয়র প্রার্থী মোহাঃ হাসিবুল হকে’র।
নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘চলো বদলাই আলমডাঙ্গা’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আলমডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোহাঃ হাসিবুল হক (লিপু)।
নাগরিকসেবা সহজীকরণ, দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত পৌর প্রশাসন, পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নিজের উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরছেন তিনি।
মেয়র প্রার্থী লিপুর প্রকাশিত নির্বাচনী বক্তব্য ও প্রচারপত্রে আলমডাঙ্গা পৌরসভাকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও মানবিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। তার প্রতিশ্রুতির কেন্দ্রে রয়েছে নাগরিকদের হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা এবং পৌরসভার প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা।
লিপু বলেন, “আমি এমন একটি আলমডাঙ্গা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে নাগরিকদের সেবা পেতে হয়রানি বা অনিয়মের শিকার হতে হবে না। পৌরসভার প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই।”
পরিকল্পিত উন্নয়নে জোর
লিপুর নির্বাচনী পরিকল্পনায় পৌরসভার উন্নয়নকে বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়কবাতি স্থাপন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে নাগরিকদের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
তার ঘোষিত কর্মসূচিতে পৌরসভার সড়ক, ড্রেন ও অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়ন, নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করা এবং রাস্তাঘাট আলোকিত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
লিপুর ভাষায়, “আলমডাঙ্গার উন্নয়নকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে।”
নাগরিকসেবাই অগ্রাধিকার
মেয়র প্রার্থীর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি পৌরসভার উন্নয়ন শুধু রাস্তা-ঘাট নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। নাগরিকদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করাও একটি আধুনিক পৌর প্রশাসনের দায়িত্ব।
এ কারণে তার নির্বাচনী কর্মসূচিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, নারী ও শিশুদের কল্যাণ এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
তরুণদের নিয়ে আলমডাঙ্গার ভবিষ্যৎ
লিপুর নির্বাচনী ভাবনায় সবচেয়ে গুরুত্ব পাওয়া বিষয়গুলোর একটি তরুণ প্রজন্ম। তিনি মনে করেন, তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের তরুণ প্রজন্মই আলমডাঙ্গার ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে চাই।”
তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও তার নির্বাচনী কর্মসূচিতে রয়েছে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
পৌরসভার আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা
নাগরিকসেবার পাশাপাশি পৌরসভার নিজস্ব আয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নির্বাচনী ইশতেহারে। পৌরসভার আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অর্থের সংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রার্থী।
জনপ্রতিনিধিত্ব মানে কর্তৃত্ব নয়
নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক পথচলার প্রসঙ্গ তুলে লিপু বলেন, মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় থেকেই তার রাজনীতি ও জনসম্পৃক্ততার পথচলা।
তার ভাষায়, “জনপ্রতিনিধিত্ব মানে মানুষের ওপর কর্তৃত্ব নয়, বরং মানুষের কাছে জবাবদিহি করা এবং তাদের সমস্যার সমাধানে কাজ করা।”
তিনি আরও বলেন, দল-মত নির্বিশেষে আলমডাঙ্গার সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পৌরসভার উন্নয়ন করতে চান তিনি।
আধুনিক পৌরসভা গড়ার প্রত্যয়
লিপুর পরিকল্পনায় আলমডাঙ্গাকে শুধু একটি পৌরসভা হিসেবে নয়, বরং পরিকল্পিত উন্নয়ন, সুশাসন ও আধুনিক নাগরিকসেবার একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে।
তার ভাষায়, “আলমডাঙ্গাকে শুধু একটি পৌরসভা হিসেবে নয়, পরিকল্পিত উন্নয়ন, সুশাসন ও আধুনিক নাগরিক সেবার একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।” এ জন্য তিনি দল-মত নির্বিশেষে পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
লিপুর প্রকাশিত নির্বাচনী প্রচারপত্রে তার পূর্বের বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সড়ক নির্মাণ, ড্রেন তৈরি, পানির লাইন স্থাপনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সেবামূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এসব তথ্য প্রার্থীর প্রচারপত্রে প্রকাশিত দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ভোটারদের সামনে এখন বাস্তবায়নের প্রশ্ন
নির্বাচনী প্রচারণায় উন্নয়ন ও নাগরিকসেবার নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরলেও এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা, অর্থায়নের উৎস, প্রকল্পভিত্তিক অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন কাঠামো কী হবে—তা ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় নাগরিকদের প্রত্যাশা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে আলমডাঙ্গা পৌরসভার দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।
সব মিলিয়ে লিপুর নির্বাচনী বক্তব্যে নাগরিকসেবা, পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিচ্ছন্নতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, তরুণদের উন্নয়ন এবং মানবিক পৌর প্রশাসন—এই বিষয়গুলোকে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এখন এসব উন্নয়ন ভাবনা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার ভোটারদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হয়, সেটিই নির্বাচনী মাঠে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।







