মন্ত্রীত্ব নয়, রাজশাহী আগে: নেসকো ইস্যুতে কড়া বার্তা ভূমিমন্ত্রীর

রাজশাহী থেকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সরানো হবে না। নেসকোসহ সব গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান রাজশাহীতেই রাখার ঘোষণা; জুলাই শহিদ পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহী থেকে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)সহ কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করা হবে না বলে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, রাজশাহীর স্বার্থ যেকোনো মন্ত্রীপদ বা সংসদ সদস্যের আসনের চেয়েও বড় এবং এ অঞ্চলের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজশাহীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, “শুধু নেসকো নয়—রাজশাহী থেকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানই সরিয়ে নেওয়া চলবে না। মন্ত্রীপদ বা এমপি পদ রাজশাহীর চেয়ে বড় নয়। আমি এখানেই জন্মেছি, এখানেই মরব। কোনো ঠিকাদার সরকারি অফিসের স্থান নির্ধারণ করবে না।”

তিনি বলেন, রাজশাহীর উন্নয়ন, মর্যাদা ও প্রশাসনিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে সরকার সচেতন রয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন বলেও জানান।

নেসকোর প্রধান কার্যালয় দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী নগরের হেতেমখাঁ এলাকায় অবস্থিত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছে পাঠানো এক ডিও পত্রে নেসকোর সদর দপ্তর বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে বলা হয়, বগুড়া রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মধ্যবর্তী স্থানে হওয়ায় পরিচালনাগত কার্যক্রম আরও সহজ ও সমন্বিত হবে। পরে বিষয়টি যাচাই করতে বিদ্যুৎ বিভাগ একটি সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটি গঠন করে।
প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজশাহীতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন, প্রতিবাদ কর্মসূচি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় সরিয়ে নেওয়া হলে এ অঞ্চলের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্ষুণ্ন হবে।

সে সময়ও ভূমিমন্ত্রী মিনু প্রকাশ্যে নেসকোর সদর দপ্তর রাজশাহীতেই রাখার পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন এবং রাজশাহীর স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।

বুধবারের বক্তব্যে তিনি আগের অবস্থান আরও জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, শুধু নেসকো নয়, রাজশাহী থেকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানই স্থানান্তর করা হবে না।

এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। তাদের পরিবারের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, আর্থিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মিজানুর রহমান মিনু ১৯৯১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে তিনি প্রথম রাজশাহী-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি ভূমিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। দীর্ঘ কয়েক দশক পর রাজশাহী সদর আসন থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পাওয়ায় এ অঞ্চলের উন্নয়ন প্রত্যাশা আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

রাজশাহীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ভূমিমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে নেসকোসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান রাজশাহীতে বহাল রাখার ঘোষণাকে এ অঞ্চলের প্রশাসনিক মর্যাদা ও উন্নয়ন স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।