রাজশাহীতে গোদাগাড়ীর শীর্ষ মাদক কারবারিদের প্রকাশ্য বৈঠকের অভিযোগ

প্রকাশ্যে পলাতক আসামিরা, খুঁজে পায় না পুলিশ?

টুইট ডেস্ক: রাজশাহী নগরীতে গভীর রাতে মাদক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির কথিত বৈঠকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের প্রকাশ্য চলাফেরা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত ২৯ জুলাই রাত প্রায় ৯টার দিকে নগরীর অলকার মোড়ের একটি রেস্তোরাঁয় গোদাগাড়ী উপজেলার মাদারপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে আব্দুর রহিম টিপু, আতাউরের ছেলে জসিম ও ব্যবসায়ী মোশারফকে একসঙ্গে দেখা যায়। সেখানে তাদের মধ্যে কথিত একটি বৈঠক হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। পরে বৈঠকের দৃশ্য ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে টিপু ও জসিমকে দেখা গেছে বলে দাবি করা হলেও এর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, মোশারফ টিপুর ব্যবসায়িক অংশীদার এবং তিনি অবৈধ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে, ওই রাতে বৈঠকের উদ্দেশ্য কী ছিল, সেখানে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে কিংবা আর কারা উপস্থিত ছিলেন—এ বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

টিপুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আব্দুর রহিম টিপুর বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া ২০১৭ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রাজশিয়ার শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকায় তার নাম ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত ৭ মে ৪ কেজি ৩০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলাতেও তার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। তার দুই ভাই মেহেদী হাসান ও সোহেল রানার বিরুদ্ধেও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

সম্পদ নিয়ে নানা অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে পরিবারটির সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের দাবি, রাজশাহী শহরের আলীগঞ্জে বহুতল ভবন ও বিপণিবিতান, নিউমার্কেট ও সাহেববাজারে একাধিক দোকান, গোদাগাড়ীতে খামার, মাদারপুরে বাড়ি, কৃষিজমি এবং বিভিন্ন যানবাহন রয়েছে।

তবে এসব সম্পদের মালিকানা, অর্জনের উৎস কিংবা বৈধতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই ছাড়া সেগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একাধিক মামলার আসামি ও পলাতক হিসেবে উল্লেখিত ব্যক্তিরা যদি প্রকাশ্যে চলাফেরা করে থাকেন, তাহলে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না কেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, টিপু ও জসিমের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। শুধু তাদের নয়, তালিকাভুক্ত সব মাদক ব্যবসায়ীকেই আমরা খুঁজছি। তাদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভিডিওটির সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান যাচাই করে ব্যবস্থা নিলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।