পশ্চিম আফ্রিকায় নতুন বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গিনি-বিসাউকে গুরুত্ব দিচ্ছে রাশিয়া

খনিজ, জ্বালানি, কৃষি ও লজিস্টিকস সহযোগিতা জোরদারে রোডম্যাপ; অক্টোবরের রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নতুন গতি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গিনি-বিসাউকে কৌশলগত প্রবেশদ্বার হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে রাশিয়া। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বৈঠকে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, খনিজ সম্পদ, জ্বালানি, কৃষি, মৎস্য, ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধান এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
গত ১৬ জুলাই মস্কোতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং গিনি-বিসাউয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফাতুমাতা জাউ বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ স্বীকার করে যে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে অগ্রগতি হলেও তা এখনও সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। তাই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আলোচনায় প্রথম রাশিয়া-গিনি-বিসাউ বিজনেস ফোরাম আয়োজন, নতুন বিনিয়োগ আইন প্রণয়ন, ভূতাত্ত্বিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, রুশ কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমে সহায়তা এবং আগামী অক্টোবরে মস্কোয় অনুষ্ঠিতব্য তৃতীয় রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনের প্রস্তুতির বিষয়ও উঠে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার আফ্রিকা নীতিতে এখন রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতিই প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠছে।
২০১৯ সালের সোচি সম্মেলনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে জোর দেওয়া হলেও ২০২৩ সালের সেন্ট পিটার্সবার্গ সম্মেলনে খাদ্য নিরাপত্তা, সার, শিক্ষা ও মানবিক সহযোগিতা গুরুত্ব পায়। আর চলতি বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় তৃতীয় রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অবকাঠামো, বিকল্প অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা, লজিস্টিকস এবং শিল্প বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র ২২ লাখ জনসংখ্যার দেশ হলেও গিনি-বিসাউয়ের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। দেশটি পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াস (ECOWAS)–এর সদস্য হওয়ায় প্রায় ৪৬ কোটি ভোক্তার বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে আফ্রিকান কন্টিনেন্টাল ফ্রি ট্রেড এরিয়া (AfCFTA)–এর মাধ্যমে ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার এবং প্রায় ৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতির সঙ্গে সংযোগের সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া গিনি-বিসাউ পশ্চিম আফ্রিকান অর্থনৈতিক ও মুদ্রা ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় সিএফএ ফ্রাঁভিত্তিক স্থিতিশীল মুদ্রা ব্যবস্থার সুবিধাও পাওয়া যায়। ফলে দেশটিকে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আঞ্চলিক লজিস্টিকস কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে বৃহত্তর পশ্চিম আফ্রিকার বাজারে প্রবেশের কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে রাশিয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ সফল হলে গিনি-বিসাউ শুধু কূটনৈতিক অংশীদার নয়, বরং পশ্চিম আফ্রিকায় রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বারে পরিণত হতে পারে।
সূত্র: Russia’s Pivot to Asia, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MID) ও গিনি-বিসাউয়ের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ANG।






