রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে সীমিত সাক্ষাৎ: চিকিৎসাসেবা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

২৪ ঘণ্টায় একবার দেখার সুযোগ—চিকিৎসাসেবা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি

নিজম্ব প্রতিনিধি (রাজশাহী): রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের স্বজনদের জন্য ২৪ ঘণ্টায় মাত্র একবার দেখার সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। চিকিৎসাসেবার মান, তথ্যপ্রাপ্তি এবং স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে আইসিইউতে রোগী দেখার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম অনুসরণ করা হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে স্বজনদের সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য রোগী দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে স্বজনদের অভিযোগ, এই সীমিত সময়ের কারণে রোগীর সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তারা স্পষ্ট ধারণা পান না।

আইসিইউতে ভর্তি এক রোগীর স্বজন বলেন, “২৪ ঘণ্টায় মাত্র একবার কয়েক মিনিটের জন্য দেখতে দেওয়া হয়। অনেক সময় চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও মেলে না। রোগীর অবস্থা নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তায় থাকি।”

আরেকজন স্বজন অভিযোগ করেন, “চিকিৎসা কীভাবে চলছে, কী ওষুধ দেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ে আমাদের পরিষ্কারভাবে জানানো হয় না। এতে উদ্বেগ আরও বাড়ে।”

এ বিষয়ে হাসপাতালের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আইসিইউ একটি সংবেদনশীল ইউনিট হওয়ায় সেখানে নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক। অতিরিক্ত ভিড় বা অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও উন্নত করার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। এতে রোগীর মানসিক উন্নতি হতে পারে এবং স্বজনদের উদ্বেগও কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইসিইউতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে একই সঙ্গে রোগীর স্বজনদের নিয়মিত তথ্য জানানো এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি। এ জন্য নির্দিষ্ট ব্রিফিং ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতি ৬ ঘণ্টা অন্তর স্বজনদের রোগী দেখার সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনায় আনা যেতে পারে। তবে রামেক স্বীকার করেন, স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।

এদিকে, স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।