বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ: সহায়তার আশ্বাস দিল আরব আমিরাত

ইউএই বাংলাদেশের বন্যাদুর্গতদের পাশে, সমবেদনা জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
টুইট ডেস্ক: ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বাংলাদেশে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় সংহতি প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শোকসন্তপ্ত পরিবার, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে।
ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ভারী বৃষ্টিজনিত বন্যায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে এই দুর্যোগে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনাও করা হয়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার মাধ্যমে ১২ জুলাই এ বিবৃতি প্রকাশিত হয়।
বন্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি ভয়াবহ
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চলমান বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ অন্তত ৭টি জেলায় দুর্যোগের তীব্রতা বেড়েছে। সর্বশেষ তথ্যে মৃতের সংখ্যা ৪৪ থেকে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে।
এ দুর্যোগে ১০ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। শুধু বান্দরবান জেলাতেই ২৯টি ইউনিয়নের শত শত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ধস ও আকস্মিক ঢলের কারণে অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার
দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় নৌযান ব্যবহার করে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করা হচ্ছে এবং খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মানুষ ভিড় করছেন। বান্দরবানে হাজারো মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন এবং প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে।
মধ্যরাতে ১৪০ জনকে উদ্ধার
এ দুর্যোগের মধ্যেই মানবিক উদ্যোগের উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছে বান্দরবান জেলা প্রশাসন। সাংগু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরের ওয়াদ্দা ব্রিজ এলাকার একটি নির্মাণাধীন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আশ্রয় নেওয়া ১৪০ জন বন্যাদুর্গতকে মধ্যরাতে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
ভবনটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে অবস্থানরত মানুষজন চরম ঝুঁকিতে ছিলেন। খবর পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে রাতের মধ্যেই সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
উদ্ধার কার্যক্রম শেষে জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি বন্যাদুর্গতদের খোঁজখবর নেন এবং নগদ সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে ইউএইর এ সমবেদনা বার্তা দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন অংশীদাররাও সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জরুরি যোগাযোগ
দুর্যোগকালীন সহায়তার জন্য বান্দরবানে নিম্নোক্ত নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে—
জেলা প্রশাসন: ০১৩০৯৭৪৪৯২৩
জেলা পুলিশ: ০১৩২০-১০৮৯৮
মানবিক সহায়তার আহ্বান
বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসার সংকট ক্রমেই বাড়ছে। এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যত দ্রুত বাড়বে, তত দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






