কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার দাবি, আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার দাবিকে ঘিরে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির জ্বালানি ট্যাঙ্ক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটির একটি কৌশলগত এফপিএস রাডার ব্যবস্থাও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, এটি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জবাবে পরিচালিত ‘চোখের বদলে চোখ’ অভিযানের তৃতীয় ধাপ। সংস্থাটি দাবি করেছে, ইরানের বিমান বাহিনী সরাসরি এ হামলায় অংশ নেয়। একই সঙ্গে দেশের জনগণকে সতর্কতা অবলম্বন ও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপ ইরান কোনোভাবেই মেনে নেবে না এবং প্রয়োজন হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর কুয়েত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে আইআরজিসির দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। আঞ্চলিক দেশগুলোও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-মার্কিন উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছালে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যুদ্ধবিগ্রহ এড়িয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও ঘটনাপ্রবাহের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।






