আর্জেন্টিনা ম্যাচের রেফারিং নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাল মিশর

ভিএআর ব্যবহারে ব্যর্থতার অভিযোগ; বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ম্যাচের ফল প্রভাবিত হয়েছে বলে দাবি ইএফএর
টুইট ডেস্ক: আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর নাটকীয় পরাজয়ের পর রেফারিং নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করেছে, ম্যাচে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে, যা ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
শেষ ষোলোর ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। তবে শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে।
ম্যাচ শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে ইএফএ জানায়, বিশ্বকাপজুড়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা লাখো সমর্থকের অকুণ্ঠ সমর্থন জাতীয় দলের জন্য ছিল বড় অনুপ্রেরণা। খেলোয়াড়রা সাহস, নিষ্ঠা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে রেফারিংয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং ভিএআর ব্যবহারে অসঙ্গতির বিষয়ে নীরব থাকা সম্ভব নয় বলে জানায় মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটির দাবি, ম্যাচের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে নিরপেক্ষতা ও ধারাবাহিকতা সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, যা খেলার গতিপথ বদলে দিয়েছে।
ইএফএ আরও দাবি করেছে, দেশি-বিদেশি অনেক ফুটবল বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞও ম্যাচের একাধিক বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ম্যাচ পরিচালনায় সর্বোচ্চ মানের স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত আচরণ এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
বিবৃতিতে বলা হয়, মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সবসময় ফেয়ার প্লে, ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা এবং ফুটবলের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সেই নীতির আলোকে প্রতিটি দলের সমান সুযোগ ও সমান আচরণ নিশ্চিত হওয়া উচিত। কিন্তু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের কিছু সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের মধ্যে গভীর হতাশার জন্ম দিয়েছে।
একই সঙ্গে জাতীয় দলের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষাকে নিজেদের দায়িত্ব উল্লেখ করে ইএফএ জানায়, মিশরের জার্সি গায়ে মাঠে নামা প্রতিটি ফুটবলার এবং দলের প্রতিটি সমর্থক ন্যায়বিচার ও ফুটবলের আইন সমানভাবে প্রয়োগের দাবি রাখেন।
বিতর্ক সত্ত্বেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটি বলেছে, ফলাফল এখন ইতিহাসের অংশ হলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দলের সাহস, লড়াকু মানসিকতা ও নিষ্ঠা মিশরীয় ফুটবলের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরেছে।
সবশেষে বিশ্বকাপজুড়ে জাতীয় দলের পাশে থাকা সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইএফএ বলেছে, সমর্থকদের অব্যাহত ভালোবাসা ও আস্থা ভবিষ্যতে মিশরীয় ফুটবলকে আরও এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।






