বান্দরবানে ঝুঁকির মুখে বসতি: মাইকিং করে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান

অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ধস, ঝুঁকিতে কালাঘাটার বসতঘর। ৭ পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে।
নিজস্ব প্রতিনিধি: টানা ভারী বর্ষণে বান্দরবানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা এলাকায় তিনটি বসতঘর ধসে পড়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত ধসে পড়া ঘরগুলোতে কেউ অবস্থান না করায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ে। এর ফলে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে কালাঘাটা এলাকায় হঠাৎ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে এবং তিনটি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধসে পড়া মাটি আশপাশের ঘরবাড়ির ওপর ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকাটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আরও পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত পরিবারগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন সক্রিয় হয়ে ওঠে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কালাঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়। এ অভিযানে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী অন্তত সাতটি পরিবারকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম হাসান শাহরিয়ার। তিনি জানান, ভারী বর্ষণ চলমান থাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে সচেতন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বান্দরবান পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যেসব পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে, তাদের দ্রুত এসব আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
অভিযানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশ, সেনাবাহিনী, তথ্য অফিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা অংশ নেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রস্তুত রয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধসের ঘটনা আরও বাড়তে পারে এবং এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।






