মস্তিষ্কে ক্ষতি ডেকে আনা বিরল ভাইরাস ছড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

টিকের কামড়ে সংক্রমণ, গুরুতর হলে হতে পারে মস্তিষ্কের প্রদাহ ও স্থায়ী স্নায়বিক জটিলতা।
টুইট ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে টিকবাহিত এক বিরল কিন্তু অত্যন্ত বিপজ্জনক ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ‘পাওয়াসান ভাইরাস’ নামে পরিচিত এই সংক্রমণ মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতি এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে। দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোগটির শনাক্ত হওয়া সংক্রমণের সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, পাওয়াসান ভাইরাস সংক্রমিত টিকের কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও গ্রেট লেকস অঞ্চলে এ রোগের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নতুন নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাসের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো এটি মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) অথবা মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডকে ঘিরে থাকা আবরণীর প্রদাহ (মেনিনজাইটিস) সৃষ্টি করতে পারে। রোগীর মধ্যে বিভ্রান্তি, কথা বলতে সমস্যা, খিঁচুনি, সমন্বয়হীনতা এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গুরুতরভাবে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ১০ শতাংশের মৃত্যু ঘটে। আর যারা বেঁচে যান, তাদের প্রায় অর্ধেক দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক সমস্যায় ভুগতে পারেন। এসব জটিলতার মধ্যে রয়েছে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, পেশিশক্তি কমে যাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা।
রোগটির প্রাথমিক উপসর্গ সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, বমি ও দুর্বলতা। তবে অনেক ক্ষেত্রেই আক্রান্ত ব্যক্তি শুরুতে কোনো লক্ষণ অনুভব করেন না। টিকের কামড়ের এক সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, পাওয়াসান ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। ফলে প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বনাঞ্চল, ঝোপঝাড় বা ঘাসে আচ্ছাদিত এলাকায় গেলে শরীর ঢেকে রাখা পোশাক পরা, টিক প্রতিরোধী উপাদান ব্যবহার এবং বাইরে থেকে ফিরে শরীর ভালোভাবে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে টিকের সংখ্যা এবং টিকের কামড়জনিত ঘটনার হার বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ কারণে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, টিকবাহিত বিভিন্ন রোগের পাশাপাশি পাওয়াসান ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, রোগটি এখনো বিরল হলেও এর মারাত্মক পরিণতি এবং ধীরে ধীরে বিস্তারের প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল ও শরৎকালে টিকের সক্রিয়তা বাড়ার সময় সাধারণ মানুষের বাড়তি সতর্কতা জরুরি হয়ে উঠেছে।






