জাতীয় ফুফু থেকে দাদি হওয়ার স্বপ্ন

‘ফুফু’ চরিত্রে নতুন পরিচিতি, অভিনয় ছাড়তে চান না দীপা খন্দকার
বিনোদন ডেস্ক | TweetNews24.com
টুইট প্রতিবেদক: দীর্ঘ ২৭ বছরের অভিনয়জীবনে নায়িকা, বোন, ভাবি,নানা চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করেছেন অভিনেত্রী দীপা খন্দকার। তবে সম্প্রতি জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘এটা আমাদেরই গল্প’-এ ‘ফুফু’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি পেয়েছেন এক নতুন পরিচয়। দর্শকদের ভালোবাসায় এখন তাঁকে অনেকেই ‘জাতীয় ফুফু’ বলেই সম্বোধন করেন।
এক সাক্ষাৎকারে দীপা খন্দকার জানান, বাস্তব জীবনে ফুফু হওয়ার সুযোগ না পেলেও অভিনয়ের মাধ্যমে সেই অভাব পূরণ হয়েছে। ছোটবেলায় তাঁর একমাত্র বড় ভাই মারা যাওয়ায় তিনি কখনো ফুফু হতে পারেননি। কিন্তু পর্দার চরিত্রের কারণে এখন দেশ-বিদেশের দর্শক তাঁকে ‘ফুফু’ নামে ডাকেন, যা তিনি জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে নতুন উত্থান
১৯৯৯ সালে অভিনয়জীবন শুরু করা দীপা খন্দকারের ভাষ্য, ‘ফুফু’ চরিত্রটি তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংসের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিন অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও গত কয়েক বছরে তিনি প্রায়ই শুনতেন, তাঁকে নাকি আর আগের মতো দেখা যায় না। কিন্তু এই চরিত্র তাঁর প্রতি দর্শকের আগ্রহ নতুন করে ফিরিয়ে এনেছে।
তিনি মনে করেন, এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি অভিজ্ঞ শিল্পীদের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা। কারণ, ভালো চরিত্র ও শক্তিশালী গল্প থাকলে বয়স কোনো বাধা নয়।
দর্শকের হৃদয়ে জায়গা পাওয়ার কারণ
দীপা খন্দকারের মতে, ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের জনপ্রিয়তার মূল কারণ এর বাস্তবধর্মী উপস্থাপন। পরিবারের ছোটখাটো আনন্দ, অভিমান, ঝগড়া-বিবাদ ও মিলনের গল্প দর্শক নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পেরেছেন। ফলে নাটকের চরিত্রগুলোও হয়ে উঠেছে আপনজনের মতো।
তিনি বলেন, প্রায় প্রতিটি পরিবারেই এমন একজন ফুফু, খালা, মা বা আত্মীয় আছেন, যাঁদের সঙ্গে নাটকের চরিত্রগুলোর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এই বাস্তবতাই দর্শকদের কাছে নাটকটিকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
অভিনয়ই তাঁর ভালোবাসা
অভিনয়ের পথে নানা উত্থান-পতন এলেও কখনো পেশা পরিবর্তনের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবেননি দীপা। তাঁর ভাষায়, অভিনয় শুধু পেশা নয়, এটি তাঁর ভালোবাসার জায়গা। কঠিন সময়েও তিনি বিশ্বাস করেছেন, ধৈর্য ও অধ্যবসায় একদিন ফল এনে দেয়।
বর্তমানে তিনি নারীপ্রধান ও শক্তিশালী চরিত্রভিত্তিক গল্পে কাজ করতে বেশি আগ্রহী। টেলিভিশনের পাশাপাশি ওটিটি ও চলচ্চিত্রেও এমন চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
ফুফুর পর দাদি
অভিনয়জীবনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে দীপা খন্দকার বলেন, তিনি বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন চরিত্রে নিজেকে আবিষ্কার করতে চান। নায়িকা থেকে ভাবি, ভাবি থেকে ফুফু,এই যাত্রার পর সামনে মা এবং দাদি চরিত্রেও অভিনয় করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। প্রবীণ অভিনেত্রী দিলারা জামান-কে অনুসরণ করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অভিনয়ের মধ্যেই থাকতে চান বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
দর্শকের ভালোবাসায় ‘জাতীয় ফুফু’ হয়ে ওঠা দীপা খন্দকারের কাছে অভিনয় মানে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নতুন চরিত্রের সন্ধান। আর সেই যাত্রা এখনও অনেক দূর এগিয়ে নিতে চান তিনি।






