উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারি হলেন দুর্গাপুরের গোলাম সাকলায়েন

চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শে মৎস্য চাষে সাফল্য, ভূমিমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা।

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারি হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন দুর্গাপুর উপজেলার কৃতি সন্তান ও এসএস মৎস্য খামারের স্বত্বাধিকারী গোলাম সাকলায়েন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে সাফল্য, উত্তরবঙ্গের মৎস্য খাতে অবদানের স্বীকৃতি পেলেন দুর্গাপুরের এই উদ্যোক্তা।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে মৎস্য চাষে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে গোলাম সাকলায়েনের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন ভূমিমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটা সময় গোলাম সাকলায়েন তার কাছে বিদ্যালয়ে চাকরির জন্য এসেছিলেন। তখন তাকে চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। সেই পরামর্শকে কাজে লাগিয়ে গোলাম সাকলায়েন মৎস্য চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নেন এবং ধীরে ধীরে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গের মৎস্য চাষে গোলাম সাকলায়েনের বিশেষ অবদান রয়েছে। তার মতো উদ্যোক্তারা মৎস্য খাতের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। মৎস্য চাষকে শুধু জীবিকার মাধ্যম হিসেবে না দেখে বাণিজ্যিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ভূমিমন্ত্রীর বক্তব্যে অনুষ্ঠানে গোলাম সাকলায়েনের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ উদ্যোগে মৎস্য খাতকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন, এবারের সম্মাননা তারই স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে রাজশাহীর মৎস্য খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীর তাজা মাছ কার্গো বিমানের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য রাজশাহী বিমানবন্দরকে আরও সম্প্রসারিত করে মাছ রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় মৎস্যচাষিরা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর আশপাশের খাল-বিলগুলোকে মাছ চাষের উপযোগী করে তোলা হবে। এসব জলাশয়ে মাছ উৎপাদন বাড়ানো গেলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও মাছ রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এ জন্য মৎস্যচাষিদের দেশীয় পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে রাজশাহী কালেক্টরেট পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন ভূমিমন্ত্রী। পরে নগরীতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম ড. বজলুর রশিদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ফয়েজুল কবির, রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক খন্দকার মো. শামীম হোসেন, রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও মৎস্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম। ‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর, রাজশাহীর উদ্যোগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপন করা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারি হিসেবে গোলাম সাকলায়েনের এই পুরস্কারপ্রাপ্তি রাজশাহীর মৎস্য খাতের সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য চাষের সঙ্গে যুক্ত থেকে উদ্যোক্তা হিসেবে তার সাফল্য এবং মৎস্য উৎপাদনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননাকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তার এই অর্জন দুর্গাপুরের তরুণ উদ্যোক্তাদেরও মৎস্য খাতসহ কৃষিভিত্তিক উদ্যোগে এগিয়ে আসতে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।