জুলাই সনদে আপস নয়: সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলন

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

টুইট ডেস্ক: ঢাকা, ১৬ জুন: জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রশ্নে সংসদে সমাধান না এলে রাজপথেই আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের দেওয়া রায় থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই এবং গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনমতের প্রতি তাঁর দল অঙ্গীকারবদ্ধ।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি সংসদে নিষ্পত্তি হলে সেটিই গ্রহণযোগ্য হবে। তবে সংসদে সমাধান না এলে জনগণের দাবির পক্ষে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না এবং এই দাবি একদিন বাস্তবায়িত হবেই।

সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারের দাবি
সংবিধান সংশোধন নিয়ে সরকারি দলের প্রস্তাবিত কমিটিতে বিরোধীদল অংশ নেবে না বলেও জানান ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, দেশের মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সেই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন একটি নিয়মিত আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার অংশ, যা সংসদে বিল আকারে আসতে পারে। কিন্তু মৌলিক সংস্কারের জন্য প্রয়োজন আলাদা উদ্যোগ ও রাজনৈতিক ঐকমত্য। সরকার যদি প্রকৃত সংস্কারের লক্ষ্যে কোনো প্রস্তাব আনে, তখন তা বিবেচনা করা হবে।

‘বগলদাবা বিরোধীদল’ হবে না জামায়াত
বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতের মতো অনুগত বা নিষ্ক্রিয় বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে না তাঁর দল। একই সঙ্গে অযৌক্তিক সংঘাতেও যাবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো আচরণ করা হবে না। তবে যৌক্তিক দাবি উপেক্ষিত হলে বিরোধী দল ওয়াকআউটসহ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে। তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে মূল্যায়ন করা উচিত।

সংসদের সময় অপচয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান
বিরোধীদলীয় নেতা দাবি করেন, সংসদ পরিচালনায় প্রতি মিনিটে প্রায় এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়। তাই ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্রহনন কিংবা অপ্রয়োজনীয় প্রশংসার পরিবর্তে জনগণের সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তাঁর মতে, সংসদ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের পক্ষে কথা বলা এবং জাতীয় সমস্যার কার্যকর সমাধান খোঁজা।

ব্যাংক, প্রবাসী ও সীমান্ত ইস্যুতে সরব বিরোধী দল
মতবিনিময় সভায় সংসদে উত্থাপিত বিভিন্ন নোটিশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোট, ব্যাংক খাতের সংকট, প্রবাসীদের দুর্ভোগ এবং সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ইস্যুতে বিরোধী দল ধারাবাহিকভাবে সংসদে কথা বলেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের শেয়ারবাজার ও ব্যাংকিং খাত দুটিই গভীর সংকটে রয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সংসদীয় কার্যকরী টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সীমান্তে পুশ-ইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টিকে ‘সংবেদনশীল’ উল্লেখ করে আলোচনার বাইরে রাখার চেষ্টা হয়েছে। তবে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এ ধরনের বিষয় সংসদে আলোচিত হওয়া প্রয়োজন।

রাজনৈতিক তাৎপর্য
বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে বিরোধী দলের অবস্থান আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হতে পারে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান এবং মিয়া গোলাম