মানবপাচার রোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম

টুইট প্রতিবেদক: ঢাকা, ১৫ জুন ২০২৬: মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম।

সোমবার (১৫ জুন) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে জেলা পর্যায়ের কর্মশালা’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

ফরিদা খানম বলেন, মানবপাচার শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং সমাজের নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি জানান, উন্নত জীবনের আশায় অনেক মানুষ দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে সমুদ্রপথে অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এর ফলে অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন, নিখোঁজ হচ্ছেন অথবা বিদেশে গিয়ে শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও বৈধ অভিবাসন প্রত্যেক মানুষের অধিকার। তবে অবৈধ অভিবাসন মানুষকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। তাই জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি দালালচক্রের অপতৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক করতে হবে।

ফরিদা খানম উল্লেখ করেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন আইন, নীতি এবং কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে এসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত কার্যক্রম, তথ্য বিনিময় এবং জনসম্পৃক্ততা আরও জোরদার করতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও সুপারিশ ভবিষ্যতে মানবপাচার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।