প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কেন ‘ডাবল প্রায়োরিটি’ দিচ্ছে চীন?

চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক; সম্পর্কের নতুন রূপরেখার ইঙ্গিত
টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশের নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। কূটনৈতিক অঙ্গনে এটিকে বিশেষ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণত কোনো সরকারপ্রধান সফরে গেলে একজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং অন্যজনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়ে থাকে। তবে এবার দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গেই পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হওয়ার বিষয়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে মালয়েশিয়া সফর করবেন। এরপর সেখান থেকে সরাসরি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র পর্যায়ে একাধিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই সফরে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, চীনা শিল্প স্থানান্তর, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, জ্বালানি সহযোগিতা এবং সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর মতো বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
এছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি), ব্রিকস এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে চীনের সমর্থন চাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখে এগোতে চাইছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক ভূরাজনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হবে— সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা।






