দুবাই বিমানবন্দরে যেভাবে ধরা পড়লেন বেনজীর আহমেদ

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। ইন্টারপোলের সহায়তায় শনাক্ত; ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া, ৭৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় গত ১২ জুন ২০২৬ তাকে দুবাই পুলিশ আটক করে এবং একই দিনে বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এআইভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রথমে তাকে শনাক্ত করা হয়। পরে ইন্টারপোলের ডাটাবেসে থাকা রেড নোটিশের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গেছে, তিনি লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে দুবাই পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ১৪ জুন ২০২৬ জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্যটি নিশ্চিত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি “ঐতিহাসিক সাফল্য”, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন করতে হয় এবং সেই অনুযায়ী সরকার দ্রুত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুদকের মামলা ও তদন্ত নথি প্রস্তুত করা হয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংযুক্ত করা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সট্রাডিশন প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে তা পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। দুদকের মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রায় ৭৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারা (পাসপোর্ট জালিয়াতি) যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল ১১ এপ্রিল ২০২৫ রেড নোটিশ জারি করেছিল।

প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে তিনি দেশ ত্যাগ করেন এবং এর আগে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায়ও ছিলেন। দেশে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলে তিনি বিদেশে অবস্থান করছিলেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত), তিনি দুবাইয়ে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই গ্রেপ্তার ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সফল হলে তা দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একটি মামলায় অগ্রগতি হওয়ায় জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।