রূপপুরের ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আগস্টে জাতীয় গ্রিডে

দ্বিতীয় ইউনিটে ২০২৭ সালের এপ্রিলে পারমাণবিক জ্বালানি সংযোজনের আশাবাদ সরকারের
টুইট ডেস্ক: আগামী আগস্ট মাসের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি সংযোজন কার্যক্রমও সম্পন্ন হবে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদীর স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টে আয়োজিত ‘পারমাণবিক শক্তির কৌশল, বাস্তবতা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক ও সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নয়, বরং জাতীয় উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। তবে এই প্রযুক্তির সঙ্গে উচ্চমাত্রার দায়িত্বও জড়িত। একটি সফল পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরাপত্তা সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, গত ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পারমাণবিক জ্বালানি সংযোজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। এর ফলে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারকারী উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর দেশগুলোর কাতারে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
ফকির মাহবুব আনাম জানান, দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সঙ্গে জ্বালানির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি কৌশলগত প্রকল্প। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসা, কৃষিতে উন্নত জাতের ফসল উদ্ভাবন, শিল্পখাতের আধুনিকায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর বহুমাত্রিক প্রয়োগ রয়েছে।
পারমাণবিক শক্তি নিয়ে জনআস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিটির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে উন্মুক্ত যোগাযোগ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তব্য দেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং অ্যাম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ রাসেল।
এ ছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম এবং প্রধান সমন্বয়ক (এনএসপিসি) ব্রিগেডিয়ার রোবায়েত রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তথ্যচিত্রভিত্তিক উপস্থাপনা করেন।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রতিনিধি মেহমেত জেইহান, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।






