ব্যভিচারের মামলায় খালাস নাসির-তামিমার

অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় রায় আদালতের

টুইট ডেস্ক: বহুল আলোচিত ব্যভিচার, প্রলোভন দেখিয়ে অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া এবং মানহানির মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় নাসির ও তামিমা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় আনা অভিযোগসমূহ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তাদের খালাস দেওয়া হলো।

এর আগে গত ৬ মে মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১০ জুন রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন। শুনানিতে বাদীপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করলেও আসামিপক্ষ তাদের নির্দোষ উল্লেখ করে খালাস প্রার্থনা করে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসান ঢাকার একটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালে রাকিব ও তামিমার বিয়ে হয় এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের বিয়ের ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। বাদীর দাবি ছিল, পূর্ববর্তী বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা আইন ও ধর্মীয় বিধানের পরিপন্থী।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, নাসির হোসাইন তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে যান এবং তাদের সম্পর্কের কারণে বাদী ও তার সন্তান মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির হোসাইন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে অভিযোগ গঠনের আদেশ এবং অব্যাহতির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ পৃথকভাবে উচ্চতর আদালতে আবেদন করলেও ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত বিচার কার্যক্রম চলার পক্ষে আদেশ দেন।

মামলাটিতে মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আত্মপক্ষ সমর্থন, সাফাই সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

রায় ঘোষণার আগে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি উল্লেখ করে খালাসের আবেদন জানান।

দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে বহুল আলোচিত মামলাটির নিষ্পত্তি হলো।