যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে ইসরাইলের সাড়ে ৩ হাজার হামলার অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামের দাবি, কয়েকটি সীমান্তবর্তী গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস; বাস্তুচ্যুত মানুষের চাপে বিপর্যস্ত লেবানন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও লেবাননে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল,এমন অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম।
তার দাবি, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ইসরাইল প্রায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি হামলা ও ধ্বংসাত্মক অভিযান পরিচালনা করেছে, যার ফলে সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা মানবিক সংকটে পড়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ১৭ এপ্রিল থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ইসরাইল লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩ হাজার ৪৯১টি বিমান হামলা, ৪০৭টি পরিকল্পিত ধ্বংস অভিযান এবং ছয়টি বৃহৎ সামরিক উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এতে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি গ্রাম কার্যত মাটির সঙ্গে মিশে গেছে বলেও দাবি করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেন, লেবানন যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলার চেষ্টা করছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন করে বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢল সৃষ্টি করেছে, যা দেশটির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানী বৈরুত, সাইদা এবং অন্যান্য অঞ্চলে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে নতুন করে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে আসা মানুষদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরাইলি হামলা এবং জোরপূর্বক এলাকা ছাড়ার সতর্কতার কারণে এখন পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যা লেবাননের মোট জনসংখ্যার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগের সমান।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্ত অঞ্চলে অব্যাহত সামরিক তৎপরতা এবং নতুন বাস্তুচ্যুত সংকট মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা, পুনর্বাসন এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।






