রাজশাহীর চারঘাট-বাঘায় মাদকের ভয়াল থাবা

সীমান্ত রুটে অবাধ পাচার, ধরাছোঁয়ার বাইরে সিন্ডিকেটের মূল হোতারা
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর সীমান্তঘেঁষা চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরেই পদ্মা তীরবর্তী এই দুই উপজেলা মাদক পাচারের অন্যতম করিডোর হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চললেও মাদক সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সীমান্তবর্তী নদীপথ ও দুর্গম এলাকা ব্যবহার করে ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক দেশে প্রবেশ করছে। পরে এসব মাদক চারঘাট ও বাঘার বিভিন্ন এলাকায় গোপনে মজুদ করে স্থানীয় বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হচ্ছে এসব মাদক।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, দুই উপজেলায় বর্তমানে দুই শতাধিক মাদক কারবারি ও গডফাদার সক্রিয় রয়েছে। এদের অধিকাংশই সরাসরি মাঠে না নেমে নিয়োগকৃত সহযোগীদের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। ফলে অভিযানে মাঠপর্যায়ের সদস্যরা গ্রেপ্তার হলেও সিন্ডিকেটের মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে আড়ালে।
সরেজমিনে চারঘাট উপজেলার রাওথা, পিরোজপুর, গোপালপুর, মোক্তারপুর, গৌরশহড়পুর, ইউসুফপুর, টাঙ্গন, ঝিকরা, শলুয়া, হলিদাগাছী স্টেশন, নন্দনগাছী স্টেশন ও পুঠিয়ামারী এলাকাকে স্থানীয়রা মাদকপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একইভাবে বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ, পালপাড়া, ভানুকর, হাবিবুরের মোড়, আতারপাড়া, হরিরামপুর, আলাইপুর, কেশরপুর ও পানিকামরা এলাকায়ও প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, একসময় আর্থিকভাবে দুর্বল থাকা অনেক ব্যক্তি এখন হঠাৎ বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। মাদক ব্যবসার অর্থে তারা জমি, দোকানপাট ও বিপণিবিতান কিনে প্রভাবশালী অবস্থান গড়ে তুলেছেন। বিকেলের পর থেকেই বিভিন্ন মাদক স্পটে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির আনাগোনা বাড়তে দেখা যায় বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মাদক সিন্ডিকেটও নিজেদের অবস্থান ও প্রভাবের বলয় বদলে নেয়। ফলে সরকার বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন হলেও তাদের অবৈধ ব্যবসায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে না। বরং প্রশাসনিক নজরদারির দুর্বলতা ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তারা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বাঘার কয়েকটি এলাকায় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে তিনি এখনও সক্রিয় রয়েছেন বলে দাবি তাদের। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে চারঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত অভিযানে মাদক উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তিনি মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।







