কুষ্টিয়ায় বাস সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অন্তত ৬০

ঈদ শেষে সেনানিবাসে ফেরার পথে দুর্ঘটনা, হাসপাতালে ভর্তি একাধিক সেনাসদস্যঈদ।

টুইট প্রতিবেদক: কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় সেনাসদস্য বহনকারী একটি বাস ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের তালবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে প্রশিক্ষণরত বহু সেনাসদস্য রয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় জিয়া হিসেবে জানা গেছে। তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন এবং তার বাড়ি ময়মনসিংহে। দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেনাসদস্যরা জানান, তারা সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণরত নতুন সদস্য। ঈদুল আজহার ছুটি কাটিয়ে বগুড়া থেকে ভাড়া করা একটি বাসে খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাসে ফিরছিলেন। বাসটিতে মোট ৪২ জন সেনাসদস্য ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা হিমেল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে তারা আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত সেনাসদস্যদের অন্তত ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। যাত্রীবাহী বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রীও আহত হয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু হয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়।

আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রশিক্ষণরত সেনাসদস্যদের বহনকারী বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে এবং বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে দেশের মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালকদের সতর্কতা, যানবাহনের উপযুক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়কে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন হবে।