প্রেমের টানে টাঙ্গাইলে চীনা যুবক

সাত মাসের অনলাইন প্রেম, ইসলাম গ্রহণ করে বিয়ের ইচ্ছা ওয়াং ইউলাইয়ের
টুইট প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে সীমান্ত পেরিয়ে গড়ে ওঠা এক প্রেমের গল্প। সুদূর চীন থেকে প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে প্রিয় মানুষকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন চীনা নাগরিক ওয়াং ইউলাই। স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, চীনের রাঙ্গগুই প্রদেশের বাসিন্দা ও পেশায় স্কুলশিক্ষক ওয়াং ইউলাই (৩২) গত শনিবার মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা পূর্বপাড়ায় আসেন। তার গন্তব্য ছিল আলী হোসেনের মেয়ে আনিকা আক্তারের (২০) বাড়ি। দীর্ঘ সাত মাসের অনলাইন পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ককে পরিণতি দিতেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ‘ওয়ার্ল্ড টক’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রথমে ওয়াং ইউলাই ও আনিকার পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে সেই পরিচয় বন্ধুত্বে এবং পরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। নিয়মিত যোগাযোগের পর এক মাসের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন চীনা এই যুবক।
ওয়াং ইউলাই বলেন, তিনি আনিকাকে ভালোবাসেন এবং বৈধভাবে বিয়ে করে সংসার শুরু করতে চান। বাংলাদেশের আইন ও বিধান মেনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণেরও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিয়ের পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে স্ত্রীকে নিয়ে চীনে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা কিংবা মানবপাচারের মতো অপরাধের ঘটনা বিভিন্ন দেশে ঘটলেও তিনি সম্পূর্ণ বৈধ প্রক্রিয়ায় বিয়ে করতে আগ্রহী। চীনের আইনও এ ধরনের বিষয়ে কঠোর বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আনিকা আক্তার জানান, অনলাইনে পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এখন পারিবারিক সম্মতির ভিত্তিতে বিয়ের মাধ্যমে সেই সম্পর্ককে স্থায়ী রূপ দিতে চান তারা।
চীনা যুবকের আগমনের খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দেয়। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকে বিদেশি অতিথিকে একনজর দেখতে আনিকার বাড়িতে ভিড় করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বর্তমানে এক মাসের ভিসায় বাংলাদেশে অবস্থান করছেন ওয়াং ইউলাই। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর কিছুদিন শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করবেন। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে আনিকাকে চীনে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চীনা নাগরিক ও আনিকার পরিবারের সদস্যরা থানায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি তার পাসপোর্ট প্রদর্শন করেছেন। ভবিষ্যতে কোনো আইনগত সহায়তার প্রয়োজন হলে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে একই উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের চামারি ফতেপুর গ্রামে দুই ব্যক্তি নিজেদের চীনা নাগরিক পরিচয়ে বিয়ের উদ্দেশ্যে এলেও গ্রামবাসীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই প্রেক্ষাপটে ওয়াং ইউলাইয়ের আগমনকে ঘিরে স্থানীয়দের আগ্রহ ও সতর্কতা দুই-ই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে আন্তঃদেশীয় সম্পর্ক ও বিবাহের ঘটনা বাড়ছে।
তবে এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং উভয় পরিবারের সম্মতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।






