ভারতের সমালোচনায় আজহার

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
রংপুরের তারাগঞ্জে ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভায় ভারত ও দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম।
রোববার (৩১ মে) বিকেলে তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ভারত সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের কথা বললেও বাস্তবে মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছে।
এটিএম আজহার দাবি করেন, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের কোরবানি পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা দেশটির সংখ্যালঘু ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতি আচরণের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত কখনোই বাংলাদেশের প্রকৃত স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নেয়নি; বরং বিভিন্ন সময়ে তাদের নীতি ও কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়েছে।
জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে তাদের দল শুরু থেকেই অবস্থান নিয়েছে এবং সংসদে থাকা দলের ৭৭ জন সদস্য এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বিএনপি সরকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রসঙ্গে এটিএম আজহার বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংস্কার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দলটির পক্ষ থেকে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
সভায় তিনি আরও বলেন, একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আন্তরিকতা ও সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থেকে মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারত প্রসঙ্গ, জাতীয় স্বার্থ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে এটিএম আজহারের এ বক্তব্য আগামী দিনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
এই সংস্করণটি সংবাদপত্রের উপযোগী বিন্যাস, সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, উপশিরোনাম এবং বিশ্লেষণধর্মী উপস্থাপনা অনুসরণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে।






