হাসিমুখের আড়ালে নিঃশব্দ বেদনা

জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা সায়নী চক্রবর্তীর রহস্যঘেরা মৃত্যুতে শোকের ছায়া।
টুইট ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা ও ভ্লগার সায়নী চক্রবর্তী–এর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে শোক ও বিস্ময়ে স্তব্ধ অনুসারীরা। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও হাসিমুখে ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। অথচ পরে নিজ ঘর থেকেই তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সুন্দরী’র দিদি’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন সায়নী। তাঁর পোষ্য গরু ‘সুন্দরী’কে ঘিরে নির্মিত ভিডিওগুলো ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সহজ-সরল জীবনযাপন, প্রাণীদের প্রতি মমত্ববোধ এবং আন্তরিক উপস্থাপনার কারণে অল্প সময়েই বড় একটি অনুসারীগোষ্ঠী গড়ে তুলেছিলেন তিনি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সায়নী, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, কিছুদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত টানাপোড়েনের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
চুঁচুড়ার নিজ বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করার পর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
সায়নীর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ ছিল তাঁর কনটেন্টের স্বাভাবিকতা। সাজানো নাটকীয়তা নয়, বরং পরিবারের ছোট ছোট মুহূর্ত, পোষ্যদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব চিত্রই উঠে আসত তাঁর ভিডিওতে। বিশেষ করে ‘সুন্দরী’কে কেন্দ্র করে নির্মিত ভিডিওগুলো লাখো দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মা মলি চক্রবর্তীরও পরিচিতি ছিল। মা-মেয়ে একসঙ্গে নিয়মিত ভিডিও নির্মাণ করতেন। মৃত্যুর আগের দিনও তাঁদের পেজে নতুন ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল।
জানা গেছে, সায়নী আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন এবং সম্প্রতি এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত কনটেন্ট নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বাইক চালানোর প্রতি ছিল তাঁর বিশেষ আগ্রহ। শাড়ি কিংবা জিনস,বিভিন্ন পোশাকে বাইক রাইডের ভিডিও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
কনটেন্ট নির্মাণের বাইরে ব্রাইডাল মডেল হিসেবেও কাজ করতেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত তাঁর শেষ রিলেও দেখা যায় বিয়ের সাজে। মৃত্যুর পর সেই ভিডিও ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তিন লাখের বেশি অনুসারী থাকা সায়নীর মৃত্যু অনেকের কাছেই যেন ব্যক্তিগত শোকের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে এখন ভেসে আসছে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া। কেউ লিখছেন, “সব সময় হাসিখুশি মানুষও ভেতরে ভেতরে গভীর যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করতে পারেন।” আবার কেউ বলছেন, “ভিডিওর হাসির আড়ালে যে এত কষ্ট লুকিয়ে ছিল, তা বোঝা যায়নি।”






