জঙ্গল সলিমপুরে নতুন করে উত্তেজনা

গুলিবর্ষণ থেমেছে, কিন্তু আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা কাটেনি; শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনকে ধরতে চলছে যৌথ অভিযান

টুইট প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. ইয়াসিন-কে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান সাঁড়াশি অভিযানে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গুলির শব্দ আপাতত থেমে গেলেও স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা এখনও গভীর।

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড এলাকার জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

হামলার পরও সক্রিয় অনুসন্ধান, এলাকায় টহল জোরদার

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ইয়াসিনকে ধরতে একাধিক ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তার সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হচ্ছে।

রোববার গভীর রাতে র‍্যাব ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের হামলা ও গুলিবর্ষণের পর সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ বাহিনী এলাকায় অভিযান জোরদার করে। ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়।

র‍্যাব ক্যাম্পে হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা শুধু গুলিবর্ষণেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং র‍্যাব ক্যাম্পের অবকাঠামো ভাঙচুর করা হয় এবং একাধিক স্থানে রাস্তা কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়।

ঘটনার পর যৌথ বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে অভিযান চালালেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

“জঙ্গল সলিমপুর” : দীর্ঘদিনের অপরাধকেন্দ্রিক অস্থিরতার ইতিহাস

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশক থেকে এই পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা অবৈধ বসতি, ভূমিদস্যুতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে এখানে একাধিক সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বর্তমানে ইয়াসিনের নেতৃত্বাধীন গ্রুপই সবচেয়ে সক্রিয়।

তিনটি এলাকায় বিশেষ নজরদারি

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ইয়াসিনের সম্ভাব্য অবস্থান ধরে তিনটি অঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে—

দুর্গম জঙ্গলভিত্তিক এলাকা, পুরোনো পাহাড়ি গর্ত ও ঝোপঝাড় অঞ্চল এবং পরিত্যক্ত বসতি এলাকা। এসব স্থানে আগেও অস্ত্র মজুত ও সশস্ত্র অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

গোয়েন্দা শঙ্কা: নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয়

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, মো. ইয়াসিন আত্মগোপনে থাকলেও তার নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয়। বাইরে থেকে যোগাযোগ ও নির্দেশনার মাধ্যমে বাহিনী পরিচালিত হচ্ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে তার সহযোগী রোকন উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ সহযোগী এখনো পলাতক রয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক

জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, রাতের বেলা গুলির শব্দ ও অজানা চলাচলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাতে ঘুমানো যায় না, কখন কী ঘটে বলা যায় না।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলাকাটিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথ বাহিনী অভিযান অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষণ:

জঙ্গল সলিমপুরে সাম্প্রতিক সহিংসতা আবারও প্রমাণ করছে, দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অপরাধচক্র ভাঙতে শুধু অভিযান নয়, স্থায়ী নিরাপত্তা কাঠামো ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।