বাকলিয়ায় সহিংসতা মামলা: ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা, অজ্ঞাত ৪০০–৫০০ জন

ধর্ষণ অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত চট্টগ্রাম শহর; গাড়ি ভাঙচুর-আগুন ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার

টুইট ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগরের চট্টগ্রামের বাকালায়া এলাকায় সাড়ে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় পুলিশ ৫৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। একই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে এ মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক আকবর হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান।

পুলিশ জানায়, ভিডিও ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্য বিশ্লেষণ করে সহিংসতায় জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উত্তেজনার সূত্রপাত ও সহিংসতার বিস্তার

গত ২১ মে স্থানীয় ডেকোরেশন কর্মী মো. মনির হোসেনের বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই দিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর এবং পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কেও, যেখানে স্থানীয়রা অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে।

পুলিশের অভিযান ও দাবি

পুলিশ জানায়, সহিংসতার পাশাপাশি কিছু গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি অভিযুক্তকে ‘লিঞ্চিংয়ের’ মাধ্যমে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল—এমন তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার পর থেকে পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাব যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরও সন্দেহভাজনদের শনাক্তের কাজ চলছে।

পরিস্থিতি এখনো নজরদারিতে

অভিযান অব্যাহত থাকায় পুরো এলাকায় এখনো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নতুন করে গ্রেপ্তার ও মামলার পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।