জগন্নাথ হলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নির্যাতন

ছাত্রদলের তিন নেতার পদ বাতিল, তদন্তে ঢাবি প্রশাসন।

টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর জগন্নাথ হলে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় অভিযুক্ত তিন নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে হল প্রশাসন গঠন করেছে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি।

ভুক্তভোগী অভয় কুমার সিংহ বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। অভিযোগে বলা হয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় জগন্নাথ হলের রবীন্দ্র ভবনের নিচে একটি চায়ের দোকানে বসাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়।

অভয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পায়ের সমস্যার কারণে তিনি বেঞ্চে পা তুলে বসেছিলেন। এ সময় ফেঞ্জ ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগের শিক্ষার্থী চন্দন দাস ও ঝলক দাস তাকে পা নামিয়ে বসতে বলেন। তিনি জানান, জায়গা ফাঁকা থাকায় কারও সমস্যা হওয়ার কথা নয় এবং কেউ এলে পা নামিয়ে নেবেন। এরপর কথাকাটাকাটির জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, পরে চন্দন দাস, ঝলক দাস, রিপন চন্দ্র সরকার ও সাগর নামে চারজন তার কক্ষে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করেন এবং ভবিষ্যতে নিচে বা চায়ের দোকানে না আসার হুমকিও দেন।

অভয় কুমার সিংহ বলেন, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর কক্ষে ঢুকে হামলার ঘটনা শুধু অমানবিকই নয়, হলের মানবিক পরিবেশের জন্যও লজ্জাজনক। তিনি দ্রুত বিচার দাবি করে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে ডাকসুসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চন্দন দাস। তার দাবি, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটেছে। তিনি বলেন, পরে জানতে পারেন অভয় প্রতিবন্ধী। এরপর তারা দুঃখ প্রকাশ করতে তার কক্ষে গিয়েছিলেন। একইসঙ্গে তিনি ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র বলেও দাবি করেন।

অন্যদিকে রিপন চন্দ্র সরকারের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত থাকলেও মারধরে অংশ নেননি। তবে বাকি তিনজন হামলায় জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হয়। ঝলক দাস ও সাগরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর সোমবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জগন্নাথ হল শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক চন্দন দাস, ঝলক দাস ও রিপন চন্দ্র সরকারকে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন সংগঠনটির সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।

জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীষ পাল জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।