বৈধ পশু কেনার আহ্বান

কোরবানির হাটে চোরাই পশু ঠেকাতে সীমান্ত নজরদারি জোরদার

টুইট প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চোরাই পথে আসা পশু বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, কোরবানি ইবাদতের অংশ হওয়ায় পশু কেনার ক্ষেত্রেও শরিয়তসম্মত ও বৈধ উৎসকে গুরুত্ব দিতে হবে।

শনিবার রাজধানীর গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবৈধ বা চোরাই পথে দেশে প্রবেশ করা পশুর ধর্মীয় বৈধতা নিয়ে আলেম-মুফতিরাই সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে সবাইকে বৈধ উৎস থেকে কোরবানির পশু কেনার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “কোরবানি দেওয়া হয় মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য। তাই কোরবানি যেন সহি ও হালাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”

হাটে স্বাস্থ্যসেবার বিশেষ ব্যবস্থা

কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবার হাটগুলোতে বিশেষ চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পশুর জন্য মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে অসুস্থ পশুর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা, জ্বর পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান তিনি। যাতে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

চাহিদার চেয়ে ২২ লাখ পশু বেশি

সরকারি হিসাব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের কোরবানির জন্য দেশে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ। ফলে প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

তার ভাষ্য, দেশে পর্যাপ্ত পশু মজুত থাকায় বিদেশ থেকে পশু আমদানির প্রয়োজন নেই। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে অবৈধ পশু প্রবেশ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জাল টাকা ও প্রতারণা রোধে সতর্কতা

হাট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম দূর করা, ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন