প্রোটোকল, চাপ নাকি কৌশল?

শুধু শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেই বৈঠকের নীতি

টুইট প্রতিবেদক: নেপালের তরুণ প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ একের পর এক বিদেশি উচ্চপদস্থ কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করায় দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রী থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদেরও সময় না দেওয়াকে অনেকে ‘কঠোর কূটনৈতিক অবস্থান’ হিসেবে দেখছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাঠমান্ডুর অবস্থান হলো,নেপালের প্রধানমন্ত্রী এখন থেকে কেবল রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গেই বৈঠক করবেন। অর্থাৎ, তিনি সমমর্যাদার নেতাদের সঙ্গেই সরাসরি আলোচনায় আগ্রহী।

ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েনের পেছনের কারণ

সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের নির্ধারিত কাঠমান্ডু সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়। সফরে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা, সীমান্ত ইস্যু এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বৈঠক অনুমোদন না দেওয়ায় পুরো সফর স্থগিত হয়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে মূল কারণ সীমান্ত বিরোধ। বিশেষ করে—

লিপুলেখ

লিম্পিয়াধুরা

কালাপানি

এই অঞ্চলগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-নেপাল উত্তেজনা চলছে। নেপাল এগুলোকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করলেও ভারত সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

চীন-ফ্যাক্টর নিয়ে নতুন আলোচনা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও নেপাল–এর সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। অবকাঠামো, বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সহযোগিতায় বেইজিংয়ের সক্রিয় উপস্থিতি ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে,কাঠমান্ডু কি ধীরে ধীরে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের বদলে চীনের দিকে বেশি ঝুঁকছে?

তবে নেপালের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা “ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি” অনুসরণ করছে এবং কোনো পক্ষের প্রভাব বলয়ে যেতে চায় না।

ভারতের সংযত প্রতিক্রিয়া

ভারত এখনো প্রকাশ্যে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, সীমান্তসহ সব সমস্যার সমাধান আলোচনা ও কূটনৈতিক পথেই সম্ভব। একই সময়ে নেপালকে কম দামে রাসায়নিক সার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে ভারত, যা সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে এই কৌশল?

বিশ্লেষকদের মতে, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নেপাল এখনো ভারতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। জ্বালানি, আমদানি, আকাশপথ ও বাণিজ্যের বড় অংশই ভারতের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেও পশ্চিমা প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ।

তাই কূটনৈতিক কঠোরতা স্বল্পমেয়াদে অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি নেপালের জন্য কতটা লাভজনক হবে,সেই প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে।