ঋণগ্রহীতায় এক্সপোজার সীমা ২৫ শতাংশে উন্নীত করল বাংলাদেশ ব্যাংক

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়ন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা জারি, কার্যকর অবিলম্বে।
টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংক একক ঋণগ্রহীতা বা গ্রুপের ক্ষেত্রে মোট এক্সপোজার সীমা শিথিল করে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করেছে। আগে এই সীমা ছিল ১৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়ন সহজ ও বাণিজ্য কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগ–১ এর নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, এখন থেকে ব্যাংকগুলো কোনো একক গ্রাহক বা গ্রুপকে মোট মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড সুবিধা দিতে পারবে। এই বিধান ৩০ জুন ২০২৮ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এই নির্দেশনা ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ২৬(খ) ও ৪৫ ধারা অনুসারে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর। পূর্বের ব্রিপিডি সার্কুলার নং ০১/২০২২-এর অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।
নতুন নির্দেশনায় নন-ফান্ডেড এক্সপোজারের কনভার্সন ফ্যাক্টর ০.২৫ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরপর ধাপে ধাপে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ০.৩০ ও ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ০.৪০ এবং ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ০.৫০ নির্ধারণ করা হবে। ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পূর্বের নিয়ম পুনরায় কার্যকর হবে।
বৃহৎ ঋণ পোর্টফোলিও সংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের নিচে থাকলে মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃহৎ ঋণ দেওয়া যাবে। তবে শ্রেণিকৃত ঋণ বেশি হলে এই সীমা ধাপে ধাপে কমবে। সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে মোট বৃহৎ ঋণ মূলধনের ৬০০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এই বিধান ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শিথিলতা দেশের আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নকে আরও সহজ করবে। বিশেষ করে বড় আকারের ঋণপত্র ও বাণিজ্য সুবিধা গ্রহণে গতি আসবে। তবে একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে শ্রেণিকৃত ঋণ না বাড়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই নির্দেশনা ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী জারি করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। পূর্বের নির্দেশনার অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।






