আলমারি ভেঙে যা মিলল

রংপুর শিক্ষা অফিসে তোলপাড়, সাবেক কর্মকর্তাকে ঘিরে বিতর্ক।

টুইট প্রতিবেদক: রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সাবেক উপ-পরিচালক আনোয়ার পারভেজের আলমারি ভেঙে ৩৩টি কনডম ও তিন পাতা যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অফিস সূত্রে জানা গেছে, বদলির পরও তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে অফিসে না আসায় বাধ্য হয়ে আলমারির তালা ভাঙা হয়।

অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল আনোয়ার পারভেজের বদলির আদেশ জারি হয়। ৩০ এপ্রিল ছিল তার শেষ কর্মদিবস। একই সময়ে নতুন উপ-পরিচালক হিসেবে যোগদানের নির্দেশ পান অধ্যাপক কামরুজ্জামান পাইকাড়। কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও আনোয়ার পারভেজ অফিসে আসেননি এবং আলমারির চাবিও হস্তান্তর করেননি।

এ অবস্থায় ৭ মে বিকেলে বর্তমান উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান পাইকাড় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে আলমারির তালা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। পরে কাগজপত্রের সঙ্গে ড্রয়ার থেকে ৩৩টি কনডম ও তিন পাতা যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দ্রুত পুরো অফিসজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

বর্তমান উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান পাইকাড় বলেন, চার দিন অপেক্ষার পরও সাবেক কর্মকর্তা অফিসে না আসায় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। বাধ্য হয়েই তালা ভাঙা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রংপুর আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিচালক সাদাকাত হোসেন বলেন, বদলির সঙ্গে সঙ্গেই দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। তা না হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, আনোয়ার পারভেজের বিরুদ্ধে আগেও নানা অভিযোগ ছিল। তবে অভিযোগগুলো অনেক সময় যথাযথভাবে তদন্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

অন্যদিকে আনোয়ার পারভেজ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি কোনো অনিয়ম করেননি।

তার বিরুদ্ধে যারা কথা বলছেন, তারা ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণেই এমন মন্তব্য করছেন। তবে আলমারি থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী নিয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।