সুন্দরবনে ১১ জেলে মুক্ত

বনদস্যুদের কবলে সাত দিন, ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণে বাড়ি ফেরা।

টুইট প্রতিবেদক: সাত দিন জিম্মি থাকার পর অবশেষে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন সুন্দরবনে অপহৃত ১১ জেলে। বনদস্যুদের দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পর শুক্রবার ভোরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে দীর্ঘ পথ হেঁটে নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছান তারা। এ ঘটনায় উপকূলীয় জেলেপাড়ায় স্বস্তি ফিরলেও বনদস্যু আতঙ্ক আবারও নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও মুক্ত হয়ে ফেরা জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩ মে রাতে পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকায় মাছ ধরার সময় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা ১১ জেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে। পরে তাদের পায়ে শিকল পরিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। অপহরণের তিন দিন পর আরেক বনদস্যু গ্রুপ শরীফ বাহিনী গোলাগুলির মাধ্যমে জেলেদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জেলে রুবেল হাওলাদার জানান, বন্দিদশায় তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। মুক্তিপণ আদায়ের জন্য দস্যুরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভয়ভীতি দেখায়।

স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শুরুতে প্রতি জেলের জন্য এক লাখ টাকা দাবি করা হলেও পরে দরকষাকষির মাধ্যমে জন প্রতি ৭০ হাজার টাকা হিসেবে মোট ৭ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। টাকা পরিশোধের পর শুক্রবার ভোরে শরীফ বাহিনী জেলেদের ধানসাগর এলাকার আড়য়ার নদীর মোহনায় নামিয়ে দেয়।

মুক্ত হয়ে ফেরা জেলেদের মধ্যে রয়েছেন, ছবির, রাকিব, লুৎফর হাওলাদার, বাদল হাওলাদার, সজীব হাওলাদার, হাফিজুল, আলমগীর ফরাজী, ইয়াসিন হাওলাদার, পাথরঘাটার রুবেল ও বটিয়াঘাটার দেব চন্দ্র।
এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, মুক্তিপণ দিয়ে জেলেরা ফিরে আসার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়নি।

অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা কমেছে বলে প্রশাসনের দাবি থাকলেও সাম্প্রতিক এই অপহরণের ঘটনায় জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বনাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার না হলে জীবিকার তাগিদে নদীতে নামা হাজারো জেলের জীবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।