সেতু টোল ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব

সব সেতুতে ক্যাশলেস টোল: দ্রুততা ও স্বচ্ছতায় নতুন যুগের সূচনা।

টুইট প্রতিবেদক: দেশের সব সেতুতে ইলেকট্রনিক ও ক্যাশলেস টোল আদায় ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে যানবাহন পারাপারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা কমে আসবে এবং টোল আদায়ে স্বচ্ছতা ও গতি বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘মানব সম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় তিনটি পৃথক গবেষণাপত্রে এ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। পদ্মা সেতুসহ সব গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে আধুনিক টোল ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ ব্যবস্থা চালু করা গেলে যানবাহনের সারি ও সময়ক্ষেপণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টোল পরিশোধের সুবিধা চালুরও সুপারিশ করা হয়, যাতে চালকরা সহজেই ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে পারেন।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের একজন সহকারী অধ্যাপক গবেষণা উপস্থাপনায় জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রতিটি সেতুতে পৃথক যোগাযোগ কর্মকর্তা নিয়োগ, অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক তথ্য সরাসরি অনলাইনে প্রদর্শনের প্রস্তাবও উঠে আসে।

অন্যদিকে, বিআরটিএ, মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং সেতু কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বিত তথ্য বিনিময় ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে টোল আদায় প্রক্রিয়া আরও নির্ভুল ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গবেষণায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে চলমান অবস্থায় সেন্সরের মাধ্যমে টোল আদায়ের ‘মাল্টি লেন ফ্রি ফ্লো’ প্রযুক্তি চালুর কথাও বলা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে যানবাহনকে আর থামতে হবে না।

সেতু বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এতে দেশের সেতু ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।