বান্দরবানে হাম আতঙ্ক, শুরু টিকাদান অভিযান

আলীকদমে ৩ শিশুর মৃত্যু; ৭৬৮ কেন্দ্রে ৬০ হাজারের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: বান্দরবানের আলীকদমে হামের সংক্রমণে তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো জেলায়। সংক্রমণ বিস্তারের আশঙ্কায় স্বাস্থ্য বিভাগ জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে কুরুকপাতা ইউনিয়নে অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র চালু করেছে। একই সঙ্গে জেলার সাত উপজেলায় শুরু হয়েছে ব্যাপক হাম-রুবেলা টিকাদান অভিযান।
বুধবার হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন–২০২৬ উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগ, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহযোগিতায় পরিচালিত কর্মসূচির প্রস্তুতি, লক্ষ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আলীকদম উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩৬টি পাড়ায় হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুরুকপাতা ইউনিয়নের মৈত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ী ক্লিনিক চালু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় চিকিৎসাসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত অবহিতকরণ সভায় জানানো হয়, জেলার ৭৬৮টি কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে। এতে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৬০ হাজার ২৬৭ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. শাহীন হোসাইন চৌধুরী জানান, যারা আগে হাম প্রতিরোধের টিকা নিয়েছে তারাও এ কর্মসূচির আওতায় পুনরায় টিকা নিতে পারবে। তবে জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা ভাইরাসজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত শিশুদের আপাতত টিকা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, আলীকদমে ৮ হাজার ৪৭০, বান্দরবান সদরে ৫ হাজার ২৫৮, লামায় ১৮ হাজার ২০৭, নাইক্ষ্যংছড়িতে ১২ হাজার ৬৯৪, রোয়াংছড়িতে ৩ হাজার ৪৬৭, রুমায় ৩ হাজার ৩০৯, থানচিতে ৪ হাজার ২১১ এবং পৌর এলাকায় ৪ হাজার ৬১১ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়িতে একজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের শিশুদের নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।






