জগন্নাথপুরে কৃষক দুর্দশায় ৫ দফা দাবি

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা, সহায়তা ও হাওর রক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান।

টুইট ডেস্ক: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বোরো ফসল নষ্ট হয়ে কৃষকদের চরম দুর্দশার প্রেক্ষাপটে দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছে ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটি কৃষি ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কারেরও আহ্বান জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। সংগঠনের নেতারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অতিবৃষ্টি এবং দুর্বল ফসল রক্ষা বাঁধের কারণে চলতি মৌসুমে উপজেলার অধিকাংশ বোরো জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে, এতে প্রায় ২০ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, জগন্নাথপুর উপজেলার ১৫টি হাওর ও নন-হাওর এলাকায় প্রায় ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত বৃষ্টিপাত ও অব্যবস্থাপনার ফলে উৎপাদন বিপর্যয়ে পড়ে কৃষকরা এখন মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন।

সংগঠনটি পাঁচটি মূল দাবি উত্থাপন করে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে,প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত কৃষকদের স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করে আগামী মৌসুম পর্যন্ত নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা।

দ্বিতীয়ত, আসন্ন চাষাবাদের জন্য বিনামূল্যে উচ্চফলনশীল বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা।

তৃতীয়ত, ধান সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় লটারির পরিবর্তে কৃষি কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা।

চতুর্থত, ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে কৃষকদের অংশগ্রহণে গণশুনানি এবং স্বচ্ছ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা।পঞ্চমত, জলাবদ্ধতা নিরসনে এলাকার মৃতপ্রায় খাল ও নদী পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক শামীম আহমদ এবং সদস্য সচিব আমিনুল হক সিপনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

কৃষকদের দাবি, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী মৌসুমেও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।