গুলিবর্ষণে রোহিঙ্গা নেতা নিহত

উখিয়া ক্যাম্পে আধিপত্যের সংঘর্ষ, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা
টুইট প্রতিবেদক: কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এলোপাতাড়ি গুলিতে এক রোহিঙ্গা নেতা নিহত ও আরও দুইজন আহত হওয়ার ঘটনা নতুন করে ক্যাম্পভিত্তিক সশস্ত্র তৎপরতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যাম্প-৭ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নৌকারমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন এলাকায় সংঘটিত হামলায় অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারীরা মোটরসাইকেলে চলাচলরত কয়েকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে গুরুতর আহত হন কেফায়েত উল্লাহ হালিম, যিনি ক্যাম্পভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী এআরওর একজন নেতা হিসেবে পরিচিত।
পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৭) ও নুর মোহাম্মদ (৩২)। প্রথমে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহ, হামলার পেছনে আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি (আরসা)-
সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র সদস্যরা জড়িত থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি।ঘটনার পরপরই পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ চলমান। সাম্প্রতিক এ হামলা সেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেরই বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।
ফলে মানবিক আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা এসব ক্যাম্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
এদিকে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।






