ঢাবির হলে ব্যানার টানানোকে ঘিরে সংঘর্ষ

ছাত্রদল-শিবির সমর্থকদের হাতাহাতি, আহত অন্তত একজন।

টুইট ডেস্ক:  রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ব্যানার টানানো ও অপসারণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবির সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ঘটনাটি মঙ্গলবার (৫ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হলের প্রধান ফটক এলাকায় ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ধাক্কাধাক্কি এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে। হল সংসদের পক্ষ থেকে টানানো ওই ব্যানারে শাহবাগে সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. জুলহাসের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা রবিন হোসেনকে অভিযুক্ত করে তার ছবি সংযুক্ত করা হয়।

পরদিন ছাত্রদল সমর্থকরা ব্যানারটি অপসারণ করলে হল সংসদের সদস্যরা পুনরায় সেটি টানিয়ে দেন। এভাবে একাধিকবার ব্যানার টানানো ও ছেঁড়ার ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতিকে ক্রমেই উত্তপ্ত করে তোলে।

শেষবার ব্যানার অপসারণের চেষ্টা করলে হল সংসদের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

আহত শিক্ষার্থী মো. সালমান খান অভিযোগ করেন, ব্যানার রক্ষার সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালান, এতে তিনি মাথা ও হাতে আঘাত পান। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক রিফাদ হাসান সাফওয়ান বলেন, “শাহবাগের হামলার বিচার না হওয়ায় আমরা প্রতিবাদস্বরূপ ব্যানার টানিয়েছি। কিন্তু বারবার তা ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে।”

সহ-সভাপতি ছাদিক হোসেন সিকদার অভিযোগ করেন, “তৃতীয়বার ব্যানার ছেঁড়ার সময় বাধা দিলে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমরা এর বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।

হল সংসদের নেতারা আরও দাবি করেন, ছাত্রদলের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশেই এ হামলা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সহিংস রাজনীতির পুনরাবৃত্তির চেষ্টা চলছে।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।