লাল-সবুজের স্বপ্ন, পোল্যান্ডের জার্সি

নাইক্ষ্যংছড়ির শাকিবের গল্পে গর্বের সঙ্গে আক্ষেপও
টুইট ডেস্ক : স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজের জার্সি গায়ে চাপাবেন। কিন্তু বাস্তবতার পথে হেঁটে বান্দরবানের সীমান্ত উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়ির তরুণ ক্রিকেটার সাইফুল্লাহ শাকিব এখন খেলছেন ইউরোপের দেশ পোল্যান্ড–এর জাতীয় দলে। তার এই অর্জনে যেমন গর্বিত নিজ জেলা, তেমনি থেকে গেছে অপূর্ণতার এক চাপা আক্ষেপ।
গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ড ও স্লোভেনিয়াকে নিয়ে আয়োজিত ফ্রেন্ডশিপ টি-টোয়েন্টি সিরিজে অভিষেক হয় শাকিবের। সাদা-লাল জার্সিতে মাঠে নামেন নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা বাজারের এই তরুণ।
শেকড় থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে:
১৯৯৮ সালে নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা বাজারে জন্ম শাকিবের। বাবা মোহাম্মদ ইউনুছ একজন ব্যবসায়ী। পাহাড়ি জনপদে বেড়ে ওঠা শাকিব ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটে ঝুঁকে পড়েন। পরিবারের ইচ্ছায় কক্সবাজারে হেফজখানায় পড়াশোনা শুরু করলেও পরে নাইক্ষ্যংছড়ির মাদ্রাসা থেকে দাখিল সম্পন্ন করেন।
ক্রিকেটের টানে ঢাকায় গিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলেছেন ক্লাব ও কর্পোরেট লিগে। জাতীয় দলের ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয়–এর সহায়তায় মিরপুরে পড়াশোনার সুযোগ পান, যা তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে পাড়ি জমান পোল্যান্ড–এ। সেখানকার ঘরোয়া লিগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, শৃঙ্খলা ও লড়াকু মানসিকতায় নজর কাড়েন নির্বাচকদের। অবশেষে জায়গা করে নেন জাতীয় দলে।
গর্বের মাঝেও আক্ষেপ:
শাকিবের বাবা মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, “ছোটবেলা থেকেই ও ক্রিকেটপাগল ছিল। এখন বিদেশের জাতীয় দলে খেলছে—এটা আমাদের জন্য গর্বের।”
তবে নিজের ভেতরে আক্ষেপ লুকিয়ে রাখেননি শাকিব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “স্বপ্ন ছিল নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার, কিন্তু ভাগ্যে লেখা ছিল পোল্যান্ড। আলহামদুলিল্লাহ।”
এলাকায় উচ্ছ্বাস:
নাইক্ষ্যংছড়িতে এখন শাকিবকে নিয়ে উৎসবের আমেজ। স্থানীয়দের ভাষায়, “সে শুধু পরিবারের নয়, পুরো এলাকার গর্ব।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “পোল্যান্ড জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাওয়া বড় অর্জন। এটি আমাদের জন্য সম্মানের বিষয়।”
বিশ্লেষণ: প্রতিভা হারানোর গল্প
শাকিবের গল্প শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়; এটি দেশের ক্রীড়া কাঠামোর সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন। তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা খুঁজে বের করা ও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে অনেক মেধাবী খেলোয়াড়ই জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ পান না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মতো উদ্যোগগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এমন আক্ষেপ কমবে। তৃণমূল থেকে প্রতিভা তুলে এনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গড়ে তুলতে পারলে দেশের জার্সিতেই উজ্জ্বল হবে আগামী প্রজন্ম।
শেষ কথা:
সাইফুল্লাহ শাকিব আজ পোল্যান্ডের জার্সিতে খেলছেন—তবু তার শেকড় বাংলাদেশের মাটিতে। তার প্রতিটি সাফল্য দেশের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা, আবার একই সঙ্গে একটি প্রশ্নও—আমরা কি আমাদের প্রতিভাগুলোকে যথাযথভাবে তুলে আনতে পারছি?






